নববর্ষের সন্ধ্যায় প্রাচীন বাঁশ কালীবাড়ি মন্দিরে ভক্তের ঢল
বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
বিষ্ণুপদ রায়, হলদিবাড়ি: দীর্ঘদিনের পরম্পরা মেনে নববর্ষের প্রথম দিনের সন্ধ্যায় শহরের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ কালীবাড়ি মন্দিরে পুজো দেন হলদিবাড়ির ভক্তপ্রাণ মানুষ। উত্তরবঙ্গের অন্যতম জাগ্রত এই মন্দিরকে ঘিরে হলদিবাড়িবাসীর আবেগ অপরিসীম। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখের সন্ধ্যা থেকে ভক্তদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। ভক্তরা নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে ডালি হাতে মন্দিরে ভিড় জমান। বছরের প্রথম দিনে মা কালীর আশীর্বাদ নিয়ে দিনটি শুরু করা এখানকার মানুষের কাছে অবিচ্ছেদ্য রীতি।
হলদিবাড়ি শহরের প্রবীণদের কথায়, ব্রিটিশ আমলে এই এলাকায় ইংরেজদের একটি চটকল ছিল। একদিন সেই চটকলের কর্মীরা লক্ষ্য করেন, তাঁদের আবাসন সংলগ্ন এলাকায় মাটি খুঁড়ে একটি কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি বেরিয়ে এসেছে। তারপর চটকল কর্মীরাই এলাকার বাঁশ ঝাড়ের ভিতরে কাঁচা ঘর তৈরি করে ওই মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানেই শুরু হয় দেবীর আরাধনা। পরবর্তীতে সেখানে টিনের চালাঘরে চলে পুজো। ১৯৭৯ সালে পাকা মন্দির তৈরি হয়। বাঁশঝাড়ের তলায় দেবীরপুজো শুরু হয়েছিল বলেই এই মন্দিরটি বাঁশ কালীবাড়ি নামে পরিচিত। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ ও কালীপুজোতে ভক্তরা ভিড় জমান।
হলদিবাড়ি শহরে শান্তি রায় বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, বাঁশ কালীবাড়িতে পুজো না দিলে যেন আমাদের বছরটাই শুরু হয় না। এই মন্দিরের প্রতি মানুষের অটুট বিশ্বাস রয়েছে। কেবল সাধারণ মানুষই নন, ব্যবসায়ীরাও তাঁদের দোকানের হালখাতা বা নতুন বছরের খাতা মায়ের চরণে ছুঁইয়ে আশীর্বাদ নিয়ে যান।