স্মার্ট ফোনের যুগে লাল মলাটের সেই হালখাতার বিক্রি আজও অটুট
বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: প্রযুক্তির যুগে অ্যানড্রয়েড সেটে এক ক্লিকেই বেচাকেনার যাবতীয় হিসেব সেরে নেওয়া যায়। ব্যবসার হিসেব রাখার জন্য হাজারো মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বেরিয়ে গিয়েছে। অ্যানড্রয়েড সেটে তা ডাউনলোড করে রাখলেই ব্যবসায়ীদের মুশকিল আসান। হিসেবে ভুলভ্রান্তির সম্ভাবনাও কম থাকে। কারণ বর্তমানে নগদের পাশাপাশি ইউপিআইয়ে যে কোনও সামগ্রীর দাম মেটানোর প্রবণতাও বেড়েছে। তবে এখনও বাংলা নববর্ষে হালখাতার তুলনা নেই। লাল মলাটে মোড়া হালখাতায় ইষ্ট দেবদেবীর নাম লিখেই বছরের হিসাব-কিতাব শুরু করেন বহু ব্যবসায়ী। তার আগে ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে হালখাতার জন্য বিশেষ পুজোপাঠ হয়। উন্নত মুঠো ফোনের দাপট ক্যালেন্ডারের গৌরবকে ম্লান করলেও পঞ্জিকা ও বাঙালির হালখাতাকে ব্যাকফুটে ফেলতে পারেনি। বাংলা পঞ্জিকার মতোই হালখাতা বিক্রি আজও অটুট রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। বাংলা নববর্ষের আগে বাঁকুড়া শহর সহ জেলার দোকানগুলিতে হালখাতা কেনার ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, একসময় বাঙালির ঘরে, ঘরে পঞ্জিকা ও পাঁজি ক্যালেন্ডারের দেখা মিলত। সেসময় দোল থেকে দুর্গোৎসব সবেরই খুঁটিনাটি তথ্য লিপিবদ্ধ থাকত সেখানে। দাদু-ঠাকুমারা পাঁজি দেখে পূর্ণিমা, অমাবশ্যা বা গ্রহণের ব্যাপারে খুটিনাটি তথ্য জেনে নিতেন। সেইমতো বাড়ির অন্যান্যদের পরামর্শ দিতেন তাঁরা। পুরোহিতদের ব্যাগে ব্যাগে ঘুরত বিশেষ এক ফুল পঞ্জিকা। তা দেখে অন্নপ্রাশন থেকে বিবাহ, যাবতীয় শুভ অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ স্থির হত। কর্মব্যস্ত বাঙালি এখন অবশ্য সেসব দেখার ফুরসৎ পায় না। তবে সময়ে-অসময়ে অন্যদের থেকে জেনে নিতে অনেককেই দেখা গিয়েছে। তবে আজকের যুগেও যে পঞ্জিকার চাহিদা তেমন হ্রাস পায়নি তা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে।
বাঁকুড়া শহরের মাচানতলা গোলপার্ক মার্কেটের ব্যবসায়ী সোমনাথ গরাই বলেন, নববর্ষে ব্যবসায়ীদের অনেকেই ‘নতুনখাতা’ করেন। তবে নববর্ষের পাশাপাশি অনেকে অক্ষয় তৃতীয়ার শুভলগ্নেও হালখাতা করেন। ফলে চৈত্রের মাঝামাঝি থেকেই হালখাতা বিক্রি শুরু হয়। আগের মতোই হালখাতা ব্যবহারের রেওয়াজ ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে। ফলে তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির যুগেও তার বিক্রিতে ভাটা পড়েনি। হালখাতার পাশাপাশি পঞ্জিকাও আগের মতোই বিক্রি হয়। তবে পাঁজি ক্যালেন্ডারের বিক্রি কমেছে।
বড়বাজারের ব্যবসায়ী কমল দত্ত বলেন, সারাবছর নগদের পাশাপাশি অনেকে ধারেও সামগ্রী কিনে নিয়ে যান। তাঁরা বছরে একবার টাকা পরিশোধ করেন। বাংলা বছর ধরেই আমরা হিসেব-নিকেশ করে থাকি। ফলে পয়লা বৈশাখ পুজোপাঠের পর নতুন খাতায় জমা-খরচের হিসেব শুরু হয়। এখনও আমরা লাল মলাটের হালখাতা ব্যবহার করি। তাতেই সারা বছরের হিসেব লেখা থাকে।