ইন্দ্রজিৎ কর্মকার, কান্দি: বোলান গান কান্দিতে খুবই জনপ্রিয়। সাধারণত রামায়ণ, মহাভারত, বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা ও সামাজিক বিষয় নিয়ে এই গান বাঁধা হয়। তবে এবার এসআইআরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির করুণ কাহিনী উঠে এসেছে বোলান গানে। এসআইআর নিয়ে রচিত বোলান গান ইতিমধ্যে এলাকায় সাড়া ফেলেছে।
বোলান গানের দলে সাধারণত ১২-২০জন অবধি শিল্পী থাকেন। পুরুষ শিল্পীরাই মহিলা সাজেন। একসময় হারমোনিয়াম, ডুগি, তবলা, কাঠি বাজনা, সানাই, বাঁশি ও কাঁসর ঘণ্টা নিয়ে বোলান গান শোনানো হত। যুগ বদলের সঙ্গে আধুনিক সিন্থেসাইজার, প্যাডের মতো বাজনাও ব্যবহার হচ্ছে।
বহুবছর ধরে কান্দি মহকুমার ভরতপুর ১ ও ২ ব্লক, বড়ঞা, কান্দি ব্লকের একাংশ ও পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামে এই গান প্রচলিত। সাধারণত বাংলা বছরের শেষ তিনদিন শিল্পীরা বোলান গান পরিবেশন করেন। গ্রামে গ্রামে সন্ধে থেকে শুরু হয়ে রাতভর গানের আসর বসে। এবার সেই বোলান গানের মহড়ায় শোনা গেল এসআইআরে ভোগান্তি নিয়ে গান।
ভরতপুর-১ ব্লকের সুন্দিপুর গ্রামে বোলান শিল্পী মিঠুন মাঝির দলের মহড়া চলছিল। গতবছর তাঁরা রামায়ণ ও একটি ছায়াছবির অনুকরণে পালাগান করেছেন। এবছর ওই দু’টির সঙ্গে এসআইআরে ভোগান্তি নিয়ে পালাগানের মহড়া দিচ্ছিলেন। ওই পালাগানের বিষয়বস্তু হল, এক মহিলার ছেলে ভিনরাজ্যে কাজ করেন। ছেলের নামে নির্বাচন কমিশন নোটিস পাঠিয়েছে। সেই নোটিস নিয়ে মহিলা পাড়ার দাদার কাছে গিয়ে সমাধানের নামে ১০০টাকা খোয়ালেন। এরপর পঞ্চায়েত সদস্যের কাছে গেলে তিনি অভব্য আচরণ করেন। অবশেষে ওই মহিলা বিএলও’র পরামর্শে শুনানির দিন বিডিও অফিসে লম্বা লাইনে দাঁড়ালেন। সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা অবধি লাইন দিয়ে কাগজপত্র জমা দিলেন। পরে জানলেন, নতুন ভোটার তালিকায় ছেলের নাম এলেও এবার বাবার নাম নেই!
এই শিল্পীদের দলনেতা মিঠুন মাঝি বলেন, নতুন পালাগান দর্শকদের মন কাড়বে বলে আমরা মনে করছি। তবে এই পালাগান কঠিন। শিল্পীরা কতটা ঠিকঠাক অভিনয় করতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় হচ্ছে।