• গাজনে ‘কাচ নাচ’ মাতিয়ে রাখে কাটোয়ার পানুহাটের বাসিন্দাদের
    বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • সংবাদদাতা,কাটোয়া: চৈত্রের শিবের গাজনে বাংলাদেশের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যেবাহী ‘কাচ নাচ’ মাতিয়ে রাখে কাটোয়ার পানুহাটের বাসিন্দাদের। ওপার বাংলার সংস্কৃতি এখনও বজায় রয়েছে। সেই আনন্দে এবার বাধ সেধেছে এসআইআর। বাদ গিয়েছে অনেক বৈধ ভোটারের নাম। সেই যন্ত্রণা বুকে নিয়েও বাঙালির লোকসংস্কৃতির ধারা বজায় রেখেছেন ‘কাচ নাচ’ শিল্পীরা। রাঢ় বাংলায় আগে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষের মনোরঞ্জন করতেন সঙ শিল্পীরা। এ যুগে সঙ আর সেভাবে দেখা না মিললেও বোলান গানের চর্চা ও প্রসার এখনো আছে। তবে  এযুগেও গাজনে চৈত্র মাসের শেষ দু’দিন লুপ্ত হতে বসা ‘কাচ নাচ’ এর মাধ্যমে পাড়ায় পাড়ায় পৌরাণিক পালা দেখিয়েই পুরানো সংস্কৃতি বজায় রেখেছেন ওপার বাংলার মানুষরা। দুই বাংলার ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটে কাচ নাচের মাধ্যমে। চৈত্র মাসের নীল পুজোর দু’দিন বাংলাদেশের যশোর, ফরিদপুর, পাবনা সহ বেশকিছু এলাকার মানুষেরা ‘কাচ নাচ’ দেখিয়ে থাকেন। কঠিন সংযমের মধ্যে দিয়ে ‘কাচ নাচ’ শিল্পীরা নিরামিষ খেয়ে এই নাচ করেন। শিব-দুর্গা, অসুর বধ, শিব-কালী, রাম-লক্ষ্মণ-হনুমান,  রাম-সীতা পালা, কালী নাচ, মুখোশ পড়ে ভালুক নাচ প্রভৃতি কাচ নাচের অঙ্গ। মুখে নানা রংচং মেখে ও সাজ পোশাক পড়ে এই নাচ দেখিয়ে থাকেন তাঁরা। সঙ্গে ঢোল, ঢাক, সানাই ও ফুলট থাকে। তারপর নানা ছন্দে দেব-দেবীরা নাচেন। অসুর বধ হয়। বাংলাদেশের মানুষ অবশ্য এটাকে লাল কাচ বা ঢোল কাচ নাচ বলেন। মানুষের বাড়ি বাড়ি নিমন্ত্রণ করে ডাকা হয় এই ‘কাচ নাচ’ এর শিল্পীদের। তারপর ১০-১৫ জনের একটি দল গিয়ে সেখানে ‘কাচ নাচ’ দেখিয়ে মনোরঞ্জন করে থাকেন।

    বাংলাদেশে যুগ যুগ ধরে গাজনের কয়েকদিন ‘কাচ নাচ’ দেখিয়ে আসছেন বহু শিল্পী। দেশ ভাগের পর ওপার বাংলার মানুষ এপার বাংলাতে এসেছেন। ওপার বাংলার মানুষরা এপার বাংলাতেও তাঁদের লুপ্ত হতে বসা এই লোকসংস্কৃতি এনেছেন। পানুহাটের বারুজীবী কলোনির ইয়ং বয়েজ ক্লাবের হাত ধরে সেই পুরানো ঐতিহ্য আজও বজায় রেখেছেন। ‘কাচ নাচ’ শিল্পী সপ্তরঞ্জন চক্রবর্তী, গোলক পাল, উৎপল পাল বলেন, এবারের মন খারাপের কাচ নাচ। কারণ আমাদের প্রতিবেশীদের অনেকেরই নাম বাদ গিয়েছে। সবাই চিন্তায় রয়েছেন। নীরবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।  
  • Link to this news (বর্তমান)