মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে ঘুরে দাঁড়ানো পট চিত্রকরদের খ্যাতি বিশ্বজোড়া, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে লক্ষ্মীলাভ শিল্পীদের
বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
মণিরাজ ঘোষ, খড়্গপুর: কদর বাড়ছে পটচিত্রের। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে লক্ষ্মীলাভ পিংলার পটচিত্র শিল্পীদের। এই ক’দিন চাহিদামতো শিল্পসামগ্রী যোগান দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে পটুয়াপাড়ার শিল্পীদের। বাহাদুর চিত্রকর, মণিমালা চিত্রকর, জবা চিত্রকররা বলছিলেন, গত কয়েক বছরে পটচিত্র গ্রামের চেহারাটাই আমূল বদলে গিয়েছে। পটকে কেন্দ্র করেই পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার নয়াগ্রাম যেন এক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই শয়ে শয়ে মানুষ আসছেন পটচিত্র কিনতে। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষেও ভালোই বরাত পেয়েছিলেন শিল্পীরা। এছাড়াও, শনিবার আর রবিবারের হাটেও নানা সামগ্রী বিক্রি হয়েছে বলে জানান মন্টু চিত্রকর, নাজেরা চিত্রকররা।
পটচিত্র বাংলার এক সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প। এই পটচিত্রকে কেন্দ্র করেই পিংলার নয়াতে গড়ে উঠেছে পটচিত্র গ্রাম। গ্রামের ১৩৬টি পরিবারের প্রায় ৪০০ জন শিল্পী এই পটচিত্রের উপর নির্ভর করেই জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করেন। মাত্র বছর দশেক আগেও বাংলার এই প্রাচীন শিল্প ক্রমেই যেন হারিয়ে যাচ্ছিল। আর্থিকভাবেও পিছিয়ে ছিলেন পিংলার পট শিল্পী বা চিত্রকররা। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই হাল ফেরে পিংলার পটচিত্র গ্রামের। রাজ্য, দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে যায় পটশিল্প। সেইসঙ্গেই সরকারি মেলা, সাপ্তাহিক হাট প্রভৃতির মধ্য দিয়ে আর্থিক সুদিন ফেরে পটশিল্পীদের।
এখন পিংলার নয়াতে গড়ে উঠেছে পট গবেষণা কেন্দ্র। রাজ্য সরকারেরর উদ্যোগে গ্রামের শিল্পীরা রাশিয়া, জার্মানি সহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি দেন। ভুবনজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছেন বাহাদুর চিত্রকর, মণিমালা চিত্রকররা।
গত কয়েক বছর ধরে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষেও পটশিল্প-নির্ভর নানা সামগ্রী তৈরি করছেন শিল্পীরা। বাহাদুর চিত্রকর বলেন, এবার একটি ব্যাংকের তরফে পাখা ও কুলোর বরাত দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ১০-১২ জন শিল্পী সপ্তাহখানেক ধরে পটচিত্র অঙ্কিত সুসজ্জিত সেই পাখা ও কুলো তৈরি করেছেন। এছাড়াও, পয়লা বৈশাখ লেখা গেঞ্জি, পাঞ্জাবি প্রভৃতিও বেশ ভালোই বিক্রি হয়েছে। দোকানের হালখাতা উপলক্ষে, পটের নানা উপহার সামগ্রীও কেনেন ব্যবসায়ীরা। রূপসনা চিত্রকর, সাবিনা চিত্রকর, ময়না চিত্রকররা বলেন, অনেকেই বাড়ি সাজানোর নানা উপকরণ কিনেছেন। তাঁরা বলছিলেন, এখন শুধুমাত্র রামায়ণ-মহাভারত বা দেবদেবীদের পটচিত্র বিক্রি হয় না। আধুনিক নানা উপকরণের উপর পট শিল্পের ছোঁয়া বেশি পছন্দ করেন ক্রেতারা।
সবংয়ের বিদায়ী বিধায়ক তথা মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া বলেন, সারা বছর ধরেই পটচিত্র গ্রামে পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। শনিবার ও রবিবারের হাটেও ভিড় জমান সাধারণ মানুষ। বার্ষিক মেলাও হয় এই গ্রামে। এবার পয়লা বৈশাখ উপলক্ষেও ভালোই বিকিকিনি হয়েছে শুনলাম।