নির্বাচনি সভা থেকে শিল্প খতিয়ান, হাওড়ায় উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরলেন বাংলার জননেত্রী
বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
সুদীপ্ত কুণ্ডু, হাওড়া: নির্বাচনি সভামঞ্চ থেকেই হাওড়ার শিল্প নিয়ে বিরোধীদের একেবারে কোণঠাসা করে দিলেন তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার জগৎবল্লভপুরের বড়গাছিয়ার সভা থেকে তাঁর সরাসরি চ্যালেঞ্জ—গ্রামীণ হাওড়ায় একের পর এক শিল্প গড়ে ওঠার বাস্তবতা সামনে থাকা সত্ত্বেও যারা শিল্পহীনতার অভিযোগ তোলে, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। অতীতের জীর্ণ শিল্পচিত্র ভেঙে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জোরে যে নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি হয়েছে, তা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, হাওড়া আবারও শিল্প মানচিত্রে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করছে এবং এই পরিবর্তন আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
মঙ্গলবারের নির্বাচনি সভায় হাওড়ার অতীত ও বর্তমান শিল্পচিত্রের তুলনা টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এই হাওড়াকে আগে শিল্পনগরী বলা হত, স্বাধীনতার পর সিপিএমের আমলে ওটা গেল শুকিয়ে। আজকে ডোমজুড় দেখুন, পাঁচলা দেখুন, জগৎবল্লভপুর দেখুন। চারিদিকে স্মল ইন্ডাস্ট্রি থেকে বড়ো ইন্ডাস্ট্রি কত তৈরি হচ্ছে! অথচ চোখে দেখতে পায় না এরা।’ বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ করে তিনি আরো যোগ করেন, ‘এরা কানে দিয়েছে তুলো আর পিঠে বেঁধেছে কুলো, আর যত পারে বাংলার লোককে ধরে কিলো।’ এরপরেই বিরোধীদের সরাসরি ‘বাংলা বিরোধী’ বলে হুংকার তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
বাস্তব চিত্র বলছে, ডোমজুড়ে গড়ে ওঠা জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্ক, ইনফ্রা পার্ক ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। করোনা পরিস্থিতির পর ভিন রাজ্যে কাজ হারিয়ে ফেরা বহু শ্রমিক এখানেই নতুন করে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। ধুলাগড়, উলুবেড়িয়া ও পাঁচলায় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এলাকাগুলিকে নতুন শিল্পমানচিত্রে তুলে ধরেছে, যার ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে স্পষ্ট গতি এসেছে। একইসঙ্গে সাঁকরাইল, পাঁচলা, উলুবেড়িয়া ও উদয়নারায়ণপুরে এমব্রয়ডারি ও জরিশিল্পের প্রসার গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো মজবুত করেছে। আমতার কুরিট গ্রামে প্রায় ৮০ বিঘা জমির উপর গড়ে ওঠা ফাউন্ড্রি ইউনিটের পার্কে ১০০টির বেশি ছোটো শিল্প ইউনিট তৈরি হচ্ছে, যা কয়েক হাজার মানুষের জীবিকার পথ খুলে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরো কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
নির্বাচনের আবহে এই শিল্পোন্নয়নের বাস্তব চিত্রকেই সামনে রেখে ডোমজুড় ও জগৎবল্লভপুরের তৃণমূল প্রার্থীরা জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছেন। পাশাপাশি তৃণমূল প্রার্থীদের জনসংযোগে স্পষ্ট হচ্ছে, আগামী দিনে গ্রামীণ হাওড়াই মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের বড়ো গন্তব্য হতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য একদিকে যেমন বিরোধীদের কড়া জবাব, তেমনই তা দলীয় প্রার্থীদের প্রচারে বাড়তি গতি এনে দেবে। ফলে ভোটের ময়দানে তৃণমূল নেত্রীর শিল্পনীতির বড়ো প্রভাব পড়বে বলেই মত বিশ্লেষকদের।