নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: থানা ঘেরাও অভিযানের জমায়েতে কে নেতৃত্ব দেবেন, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারপিটে রক্তাক্ত হলেন বিজেপি কর্মীরা। দলের নব্য নেতাদের মারে মাথা ফেটে গুরুতর জখম হলেন এক আদি নেতা। সোমবার রাতে বরানগরে এই ঘটনা ঘটে। ইতিমধ্যে আক্রান্ত বিজেপি নেতা রাজীব মিশ্র দলের কর্মীদের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
রবিবার রাতে বরানগরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলায় বিজেপির এই কর্মসূচি ছিল। সেই সভা শেষে তৃণমূলের একদল যুবক এসে বিজেপি কর্মীদের মারধর ও ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। প্রতিবাদে ওই রাতেই বরানগর থানার সামনে বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু করেন দলীয় কর্মীরা। সেই বিক্ষোভের নেতৃত্ব কাদের হাতে থাকবে, তা নিয়ে দলের পুরনো ও নতুন কর্মীদের মধ্যে বচসা বাধে। বিটি রোডের উপর শুরু হয় হাতাহাতি। পরে কর্মীদের একাংশ গোপাল লাল ঠাকুর রোডের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে যান। কিন্তু সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে মারপিট শুরু হয়।
সেখানে আক্রান্ত হন কলকাতা উত্তর শহরতলি জেলা বিজেপির প্রাক্তন সহ সভাপতি রাজীব মিশ্র। অভিযোগ, তাঁকে তাড়া করে বাঁশ ও ইট দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। আক্রান্ত রাজীববাবু বলেন, আমার গলার হার ছিনতাই করা হয়েছে। চশমাও খুলে নিয়েছে। আসলে তৃণমূল থেকে আসা কিছু কর্মীকে সামনে রেখে এলাকায় তোলাবাজির ছক কষা হচ্ছে। এইসবের নেতৃত্বে রয়েছেন আমাদের দলের প্রার্থীই। আমি নিজে এভাবে দলের ছেলেদের হাতে আক্রান্ত হব, তা স্বপ্নেও ভাবিনি।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে সজল ঘোষ বলেন, তৃণমূলের লোকেরাই মেরেছে মনে হয়। তবে ঠিক কী হয়েছে, সেটা আমি জানি না। যদি আমার অজান্তে হয়েও থাকে পুলিশ তদন্ত করবে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাবে। পাল্টা তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, টাকা দিয়ে বাইরে থেকে লোকজন এনে নিজেরাই মারপিট করছেন। ভোটের আগেই এই পরিস্থিতি হলে পরে কী করবে! বরানগরের সচেতন ভোটাররা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁরা জবাব দিতেও প্রস্তুত। বরানগরে আক্রান্ত বিজেপি নেতা রাজীব মিশ্র। নিজস্ব চিত্র