দূরে ডিউটি মহিলা কর্মীদেরও, অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে
বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রিসাইডিং অফিসার, ফার্স্ট, সেকেন্ড এবং থার্ড পোলিং অফিসার, অর্থাৎ গোটা পোলিং পার্টির নাম, মোবাইল নম্বর এবং কর্মক্ষেত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে আগেভাগে। এই তালিকায় রয়েছেন মহিলা ভোটকর্মীরাও। এর ফলে ভোটের আগে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অনেকেই। নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ নামে একটি সংগঠন। কমিশনে গিয়ে অভিযোগ জানানোর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী বিএলও ডিউটি প্রতিরোধ মঞ্চ নামে একটি সংগঠনও।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৮৭০ পাতার একটি নথি ঘুরে বেড়াচ্ছে সমাজমাধ্যমে। তাতে দেখা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ভোটকর্মী কোথায় থাকেন, কোথায় কাজ করেন, তাঁর মোবাইল নম্বর কী, এই সংক্রান্ত তথ্য পরিষ্কার উল্লিখিত রয়েছে। কোন বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁদের ডিউটি পড়বে, তাও জেনে নেওয়া যাবে। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, এর আগে আমরা জনস্বার্থ মামলা করেছিলাম। হাইকোর্ট কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল এ ধরনের তথ্য জনসমক্ষে যাতে না আসে, সেটা দেখতে। তবে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল।’ প্রতিরোধ মঞ্চের আহ্বায়ক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘এর আগেও কমিশনকে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কমিশনের বক্তব্য ছিল, অতি উৎসাহী কোনো নিচুতলার কর্মী এটা ঘটিয়েছেন। তবে, এবারও তা রোখা গেল না।’ তাঁর আশঙ্কা, বিভিন্ন দলের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, সংগঠন এই ভোটকর্মীদের তথ্য নিয়ে তাঁদের উপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতে পারে। ভয় দেখানো, লোভ দেখানো—যাই হোক, সেটা সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের পরিপন্থী।
মহিলা ভোটকর্মীদের আরো একটি সমস্যা হল, এবার ১০০ থেকে ১২০ কিমি দূরেও তাঁদের ডিউটি ফেলা হয়েছে। এই ব্যাপারে কমিশন তাঁদের নিজেদের তৈরি গাইডলাইনই মানেনি বলে অভিযোগ কিঙ্কর অধিকারীর। তাঁর বক্তব্য, মহিলা কর্মীদের কাছাকাছি কেন্দ্রে, সমস্ত নিরাপত্তা দিয়ে যাতাযাতের ব্যবস্থা করার কথা বলা আছে। এবার তো তা মানা হচ্ছেই না, অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের থাকার জায়গাও আগেভাগে বলা হচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে একই ভবনে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর।