• প্রথম দফার ভোটের আগে শেষ সাত দিন, মাটি কামড়ে প্রচারের বার্তা, ইভিএমে নজরদারির নির্দেশ জারি অভিষেকের
    বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ২৩ এপ্রিল বাংলায় প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন। প্রচার শেষের আগে হাতে মাত্র সাত দিন। এই সময়টাকে পুরোমাত্রায় ব্যবহার করার নির্দেশ দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যয়ী সুরে তিনি জানিয়েছেন, আমরাই জিতছি। বিজেপি হারছে। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জয়ের ব্যবধান বৃদ্ধি করতে হবে।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে তৃণমূলের সকল স্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন মহারণ-২৬’এর সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংসদ, কাউন্সিলর,পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধি, বুথ লেভেল এজেন্ট এবং দলীয় পদাধিকারীরা হাজির ছিলেন বৈঠকে। সব মিলিয়ে ৩০ হাজার তৃণমূল কর্মীর সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংযোগ করেন অভিষেক। বৈঠকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভোটের আগে হাতে মাত্র কয়েকদিন বাকি। এই সময়টা আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রচারের জন্য বাকি থাকা দিনগুলিতে কোনোভাবেই ফাঁক রাখা যাবে না। সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দলের স্বার্থে পরিশ্রম করতে হবে। এই সময়টায় নিজেদের অহংকার দূরে রেখে, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। দলের জন্য কারা ভালো কাজ করছেন, তাঁদের সকলের দিকে নজর রাখা হচ্ছে। যাঁরা ভালো কাজ করবেন, দল তাঁদের পুরস্কৃত করবে। আগামী পুরভোটে কোনো দাদা ধরে টিকিট পাওয়া যাবে না।

    ভোটের আগে পর্যালোচনা ও সমীক্ষায় উঠে এসেছে তৃণমূলের জয় হচ্ছেই। এই সমীক্ষার বিষয়টি এদিন তৃণমূলের পর্যালোচনা বৈঠকে উঠে আসে। তাতে নেতৃত্ব দাবি করেছেন, হেরে গিয়েছে, তা বিজেপিও বুঝে গিয়েছে। সেই কারণে এক কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করেছে। তারপরেও বাংলার মানুষের আশীর্বাদে তৃণমূল বিপুল আসন নিয়ে জয়ী হচ্ছে। অভিষেক দাবি করেছেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের যে ফল হয়েছিল, তার থেকেও এবার ভালো ফল হবে। 

    তবে বিজেপি ভোট ও গণনার দিনে নানা ধরনের চক্রান্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তৃণমূল। তাই দলীয় কর্মীদের কাছে অভিষেকের বার্তা, ইভিএমে নজর রাখুন। বিহারে বিজেপি যে কায়দায় ইভিএম বদলেছিল, সেই কায়দায় এখানেও কিছু করতে পারে। তাই ইভিএমের দিকে কড়া নজর। কেন্দ্রীয় বাহিনী কোথাও জোর-জুলুম করলে তৃণমূলের কন্ট্রোল রুমে জানান। ভোটের দিন ভোর পাঁচটা থেকে তৃণমূলের কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। আর স্ট্রংরুমের দিকে কড়া নজর রাখবেন।

    অন্যদিকে গত কয়েকদিন ধরে দেখা গিয়েছে, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা লাগাতার প্রচার করছেন। সভা থেকে হুংকার দিচ্ছেন তাঁরা। অভিষেকের দাবি, ওঁরা যতই  হুংকার দিন, আমরা ব্রিটিশদের কাছে মাথা করিনি, বহিরাগত বিজেপির কাছেও করব না। বিজেপি বিধায়করা এলাকায় কোনো কাজ করেনি। ফলে মানুষ ওদের ভোট দেবেন না।

    এই পর্বেই আবার কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা সামনে আসছে। তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের একজন কর্ণধারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঠিক এই প্রসঙ্গেই অভিষেক বলেন, বিজেপি যত কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগাবে, সেই বিষয়গুলি তত আমাদের শক্তিশালী করবে। বাংলার মানুষ বুঝে গিয়েছে বিজেপি জিততে পারবে না বলে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে নামিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি কংগ্রেস প্রসঙ্গে অভিষেকের মন্তব্য, এলাকার মানুষকে বোঝান কংগ্রেসকে ভোট দেওয়া মানে বিজেপিকে ভোট দেওয়া। কারণ বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস লড়াই করতে পারছে না। টাকা নিয়ে কংগ্রেস নেতারা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। 
  • Link to this news (বর্তমান)