রাতের অন্ধকারে ঘুরছে বিহার-ইউপির গাড়ি, বহিরাগত জুটিয়ে বাংলা দখলের চেষ্টা! বিজেপির বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল কংগ্রেস
বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন এলাকায় উত্তরপ্রদেশ, বিহারে রেজিস্ট্রেশন নম্বরের গাড়ি ঘুরছে। সেইসব দামি গাড়িতে চড়ে কারা আসছেন, তা নিয়েই রহস্য দানা বেঁধেছে। বর্ধমান, গলসিসহ পূর্ব বর্ধমানের নানা প্রান্তে বিজেপি-শাসিত রাজ্যের নম্বর প্লেট লেখা গাড়ি ঘুরছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি বহিরাগতদের জুটিয়ে বাংলা দখলের চেষ্টা করছে। উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানার নেতারা দুমাস আগে থেকেই রাজ্যে এসে ডেরা বেঁধেছেন। এমনকি, পোস্টার, হোর্ডিং দেওয়ার জন্য অন্য রাজ্য থেকে লোক আনা হয়েছিল। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর প্রায় প্রতিটি জনসভাতেই বহিরাগতদের আনা নিয়ে তোপ দাগছেন। সোমবার কাঁকসার সভা থেকেও তিনি বলেন, বিজেপি যতই চেষ্টা করুক না কেন বাংলা দখল করতে পারবে না। বিজেপি অবশ্য তৃণমূলের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, কোথাও বহিরাগতদের এনে রাখা হয়নি। সাংগঠনিক কাজ করার জন্য নেতারা আসছেন। সর্বভারতীয় দলে এমনটা হয়েই থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কাজের জন্য ভিন রাজ্যের লোকজন গাড়ি নিয়ে আসতেই পারেন। বছরের অন্যান্য সময়ও তাঁরা গাড়ি নিয়ে আসেন। কিন্তু এখন ভিন রাজ্যের গাড়ির সংখ্যা আচমকা বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে রাতের দিকে এধরনের গাড়ির আনাগোনা বাড়ছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, বিহার, উত্তরপ্রদেশের গাড়ি ঢোকার খবর আমাদের কাছেও রয়েছে। বর্ধমান শহরেও উত্তরপ্রদেশের নম্বর প্লেটের বহু গাড়ি দেখা গিয়েছে। বিজেপি বাংলাকে চেনে না। বাংলার মানুষ বহিরাগতদের বিদায় দেবে। গণতান্ত্রিকভাবে বিজেপি এবার উচিত শিক্ষা পাবে।
বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, অন্য রাজ্যের গাড়ি আসার ক্ষেত্রে বাংলায় নিষেধাজ্ঞা নেই। কেউ ব্যক্তিগত কাজেও গাড়ি নিয়ে আসতে পারেন। আসলে তৃণমূল ভয় পাচ্ছে। সেই কারণেই এসব গুজব ছড়াচ্ছে।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভিন রাজ্যের নেতারা ভোটের রণকৌশল ঠিক করছেন। প্রার্থী কোথায় যাবেন, কী করবেন সবটাই তাঁরা ঠিক করছেন। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে বহিরাগতদের সংখ্যাও তত বাড়ছে। বিজেপির এক নেতা বলেন, পোস্টার, হোর্ডিং দেওয়ার জন্য একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা বিহার, ঝাড়খণ্ডের কর্মীদের নিয়ে এসে সেই কাজ করছে। একসময় দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরাই এই কাজ করতেন। এখন সংস্থার কর্মীরা করছেন। তাঁরা সকলেই বহিরাগত। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারের জন্যও যাদের আনা হয়েছে তারাও বহিরাগত! স্থানীয় কর্মীদের এই কাজ দিলে তারা কিছুটা লাভবান হত। সবকিছুই বাইরের লোকজনকে দিয়ে করালে প্রশ্ন উঠবেই। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি শুধু গাড়ি নয়, বাস এবং ট্রেনেও বহিরাগতদের নিয়ে আসছে। তৃণমূল সুপ্রিমো অভিযোগ করেছেন, বিহার থেকে লোকজনের পাশাপাশি অস্ত্র এবং টাকাও আনা হচ্ছে।