• হাই রিটার্নের টোপে পা, ৪৩ লক্ষ টাকা খোয়ালেন নিউটাউনের যুবক-বৃদ্ধা
    বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: হাই রিটার্নের টোপ। সেই টোপ গিলে প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন নিউটাউনের এক যুবক এবং এক বৃদ্ধা। পৃথক প্রতারণার ঘটনায় তাঁরা দু’জন প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন। দু’জনেই বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হয়েছেন। এর মধ্যে যুবকের খোয়া গিয়েছে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা এবং বৃদ্ধার ১৫ লক্ষ টাকা। পুলিশ মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাইবার প্রতারণার ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টার্গেট করা হচ্ছে প্রবীণদের। তবে, বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন তরুণরা। নিউটাউনের ওই যুবকের বয়স ৩৯ বছর। ফেসবুকে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়েছিল। ওই তরুণী এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তারপর ওই যুবক তাঁকে বিনিয়োগ করতে বলে। অল্প সময়ে ৩০ শতাংশ রিটার্নের লোভ সামলাতে না পেরে ওই যুবক প্রথমে ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। তারপর প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে কয়েক দফায় তিনি ২৭ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু, রিটার্ন তো দূরের কথা, বিনিয়োগ করা অর্থই ফিরে পাননি। ওই যুবক শেষমেশ গত ১২ এপ্রিল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    ওই ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ১৩ এপ্রিল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন নিউটাউনের এক বৃদ্ধা। তাঁর বয়স ৬২ বছর। তিনিও একইভাবে প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। ফোন মারফত দুই অপরিচিত ব্যক্তি নিজেদের ফান্ড ম্যানেজার বলে পরিচয় দেয়। তারপর আলাপ জমিয়ে বিনিয়োগে উৎসাহ দেয়। হাই রিটার্নের আশায় তিনিও প্রতারকদের কথামতো ১৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেন। তিনিও লাভের টাকা পাননি। বিনিয়োগের অর্থও জলে গিয়েছে। তারপরই তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। দু’জনে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালেও অভিযোগ নথিভুক্ত করেছেন।

    সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, বিনিয়োগ প্রতারণা বা ইনভেস্টমেন্ট ফ্রড দিন দিন বাড়ছে। তাই যে কোনো ধরনের বিনিয়োগের আগে সতর্ক হন। তা না হলে সর্বস্ব খোয়াতে হবে। বিনিয়োগ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভালো করে যাচাই করুন। তারপর লেনদেন করবেন। তা না হলেই বিপদ।
  • Link to this news (বর্তমান)