বারুইপুর পশ্চিমে একাই নির্বাচনি প্রচারে কং প্রার্থী
বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, বারুইপুর: কাঁধে নীল রঙের ঝোলা ব্যাগ। সঙ্গী বলতে কখনও টোটোচালক, কখনও ভ্যানচালক। ভোটের বাজারে সাতাত্তর বছর বয়সি অসিতলাল নাগের সঙ্গী বলতে এঁরাই। অসিতবাবু এবার বারুইপুর-পশ্চিম বিধানসভা আসনে ‘হাত’ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন। গরম এড়াতে সকাল সকালই তিনি বেরিয়ে পড়ছেন প্রচারে। বলছেন, বারুইপুরের মানুষ আমাকে চেনেন, জানেন। ফলে ভোট তো কিছু পাবই।
অসিতবাবুর বাড়ি বারুইপুর পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে কবি সুকান্ত সরণি এলাকায়। পাড়ায় সবাই ‘জেঠু’ বলেই ডাকেন। তিনি এলাকার ক্লাব সংগঠনের কর্তা। এক সময়ে তিনি কলকাতা কর্পোরেশনের মেকানিক্যাল বিভাগে সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করেছেন। কংগ্রেস তাঁকে প্রার্থী করেছে বটে, কিন্তু কর্মী সংখ্যা হাতেগোনা। তাই টোটো, ভ্যানচালকরাই পাড়ার ‘জেঠু’র সঙ্গে ঘুরছেন। কাঁধের ঝোলায় রয়েছে নিজের কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও খবরের কাগজ। প্রার্থীর পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে তিনি সকাল হলেই চলে যাচ্ছেন প্রচারে। অসিতবাবু বলেন, ৫৫ বছর ধরে কংগ্রেস করছি। ছাত্র পরিষদ থেকে যুব কংগ্রেসের দায়িত্ব সামলেছি। এখন জেলা কংগ্রেসের সহ সভাপতি। এত বছর অপেক্ষার পর দল টিকিট দিয়েছে। অসিতবাবু প্রচারে বেরিয়ে বলছেন আমাকে দেখবেন, আমি আপনাদের পাশে থাকব। কিন্তু কী করবেন নির্বাচিত হলে? প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বারুইপুরে উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু শহরে নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল। অল্প বৃষ্টি হলেই জল জমে যায়। এর প্রতিকার চাই। প্রার্থীর সঙ্গে থাকা টোটো ও ভ্যানচালকরা বলেন, কর্মী তেমন নেই। টোটো করেই গ্রামে প্রচারে যাচ্ছেন জেঠু। আমরাই পাশে থাকছি। মাঝে মধ্যে কয়েকজন কংগ্রেস কর্মীকে দেখা যাচ্ছে। যদিও তৃণমূল কর্মীরা বলছেন, ভোট কাটার জন্য এই বয়সে প্রার্থী হয়েছেন অসিতবাবু। বিজেপি কর্মীরা কটাক্ষ করে বলছেন, মানুষকে বোকা বানাতে কংগ্রেস জেনে বুঝেই এক প্রবীণকে প্রার্থী করেছে।