নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: অবসর সময় কাটাতে ক্যারম খেলা খুব জনপ্রিয়। অনেকেই এই খেলায় বুঁদ থাকেন। কিন্তু নির্বাচনেও যে এর চাহিদা রয়েছে তা বোধহয় কেউ আন্দাজও করতে পারেননি। দুই নির্দল প্রার্থীর মধ্যে ক্যারম বোর্ডের দখল নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি পড়ে গিয়েছিল। তবে খেলার জন্য নয়। তাঁরা ভোটে লড়ার প্রতীক হিসাবে ক্যারম বোর্ড চেয়েছিলেন। শেষমেশ কে পাবেন সে চিহ্ন, তা লটারি করে ঠিক করতে হয়।
ভাঙড়ের নাওশান মোল্লা এবং মাসাদুল মোল্লা নামে দুই নির্দল প্রার্থী ক্যারম বোর্ড চিহ্নের জন্য আবেদন করেছিলেন। সোমবার ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং প্রার্থীদের প্রতীক বণ্টনের দিন। বারুইপুর মহকুমা শাসকের অফিসে দুই প্রার্থী হাজির হন। নির্বাচনি আধিকারিকদের কাছে তাঁরা ক্যারম বোর্ড প্রতীক দেওয়ার দাবি জানান। তা শুনে হতবাক আধিকারিকরা। একই চিহ্নের দু’জন দাবিদার! তাঁরা বলেন, কোনো একজন পাবেন এই সিম্বল। কিন্তু নাওশান ও মাসাদুল নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন। নাছোড় দুই প্রার্থীকে বুঝিয়েও লাভ হয়নি।
সূত্রের খবর, দুই নির্দলই নির্বাচনি আধিকারিকদের কাছে জানান, এই সিম্বল পেতে তিনি আগে আবেদন করেছিলেন। তাই তাঁর পাওয়া উচিত। যখন কোনো কিছুতেই রফাসূত্র বেরচ্ছিল না তখন ঠিক হয়, সিম্বল নির্ধারণ করতে লটারি করা হবে। যে জিতবে তাঁকেই এই প্রতীক সরকারিভাবে দেবেন রিটার্নিং অফিসার। তারপর পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে লটারি হয়। জয়ী হয়ে প্রতীক পান নাওশান। অপর প্রার্থী অনিচ্ছা সত্ত্বেও পান কিউব চিহ্ন। এছাড়া টর্চ প্রতীক নিয়েও এক দফা নাটক হয়। কারণ আর এক নির্দল প্রার্থী এই প্রতীক নিয়ে ভোট লড়াই করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। একইসঙ্গে এসইউসি তা দাবি করে। এক্ষেত্রে অবশ্য দাবি মেটানো সহজ হয়েছে আধিকারিকদের। কারণ নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এক চিহ্ন যদি নির্দল প্রার্থী এবং কোনো দল চায় তাহলে অগ্রাধিকার দিতে হবে সংশ্লিষ্ট দলকেই। তাই এসইউসি টর্চ প্রতীক পায়। পাওয়ার পরই দলীয় কর্মীরা দেওয়ালে প্রতীক এঁকে প্রচার শুরু করেন। আঁকা হচ্ছে টর্চ প্রতীক।-নিজস্ব চিত্র