• নিকাশি যানজট হাসপাতালের ‘রেফার রোগ’, তিন সমস্যার সমাধানে ‘গ্যারান্টি’ দিচ্ছে তৃণমূল, বারাসতের ভোটে নয়া সমীকরণ
    বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: বারাসতের কাজিপাড়ার এক চায়ের দোকান। বিকালের আলো একটু নরম হয়ে এসেছে। রাস্তায় যানজটের চাপ বাড়ছে। দোকানের সামনে বাঁশের মাচায় বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছেন 

    কয়েকজন। নিত্যদিনের সমস্যার কথা আলোচনা হচ্ছে। ‘এই যে রোজ এই জ্যাম, কবে এর থেকে মুক্তি পাব বল তো?’ পায়ের উপর পা রেখে বিরক্তির স্বরে প্রশ্ন মাঝবয়সি সমীর লাহার। তাঁর পাশেই বসেছিলেন বিক্রম দাস। তিনি বললেন, ‘কেবল জ্যাম নয়, বৃষ্টি হলেই জল দাঁড়িয়ে যায়। নিকাশি ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। আর বারাসত মেডিকেল কলেজে গেলেই তো রেফার।’ ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে চায়ের দোকানদার বললেন, ‘বারাসতের তৃণমূল প্রার্থী সব্যসাচী দত্ত এই তিন সমস্যার সমাধান করবেন বলছেন।’ হাতে থাকা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে তৃণমূল প্রার্থীর ‘গ্যারান্টি’র কথা শোনালেন তিনি। আলোচনা ধীরে ধীরে ভোটের দিকে মোড় নিল। এক তরুণ বললেন, ‘দেখা যাক ওঁকে একবার ভরসা করে কী হয়! যদি সত্যিই কাজ হয়, তাহলে বড় স্বস্তি।’ একজন বয়স্ক মানুষ চুপচাপ সব শুনছিলেন। আলোচনার শেষ পর্যায়ে তিনি বললেন, ‘বিজেপি আর বামেরা প্রচার করছে ঠিকই। কিন্তু নতুন কিছু শুনছি না। সেই পুরানো কথাই বারবার ভাঙা ক্যাসেটের মতো বাজাচ্ছে।’ 

    কাজিপাড়ার ছোট্ট এই চায়ের দোকানের আড্ডা যেন গোটা বারাসতের বর্তমান রাজনৈতিক আবহের একটা প্রতিফলন। সমস্যা বহুদিনের। কিন্তু এবার সমাধানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সরাসরি ময়দানে নেমেছে তৃণমূল। শুধু নামা নয়, সমাধানের গ্যরান্টি দিচ্ছে তারা। আর এই জায়গাতেই তৃণমূল কিছুটা এগিয়ে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বারাসত বিধানসভায় এবারের ভোটে তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। নিকাশি ব্যবস্থা, যানজট এবং বারাসত মেডিকেল কলেজের ‘রেফার রোগ’। এই তিনটি সমস্যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল প্রার্থী স্পষ্টভাবে সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরছেন প্রচারে। তৃণমূল প্রার্থী সব্যসাচীর দাবি, ‘পরিকল্পিত নিকাশি, ট্রাফিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত করার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান সম্ভব। মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করলে প্রথম এই তিনটি কাজে অগ্রাধিকার দেব।’ স্থানীয়রাই বলছেন, তৃণমূল প্রার্থী তেমনভাবে রাজনৈতিক আক্রমণ কাউকে করছেন না। জোর দিচ্ছেন উন্নয়নের গ্যারান্টিতে। অন্যদিকে বিজেপি এবং বাম প্রার্থীও তাঁদের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাঁদের প্রচারে স্থানীয় সমস্যাগুলির সমাধানে নতুন কোনো দিশা বা ভিন্ন বার্তা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক ভোটারের কাছেই তাদের প্রচার কিছুটা একঘেঁয়ে বলে মনে হচ্ছে! রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ইস্যুভিত্তিক প্রচারই বড়ো ভূমিকা নিতে পারে। সেই জায়গায় তৃণমূল প্রার্থী সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাকে সামনে এনে তা সমাধানের গ্যারান্টি দিয়ে কিছুটা হলেও বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। বিজেপি প্রার্থী শংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘গত ১৫ বছরে বারাসত সহ রাজ্যে জঙ্গলরাজ কায়েম হয়েছে। উন্নয়ন কিছুই হয়নি। তৃণমুলের বিলম্বিত বোধোদয় হয়েছে।’ 

    চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ত মোড়—সব জায়গাতেই একটা বিষয় স্পষ্ট, মানুষ এখন কথার চেয়ে কাজের দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। বারাসতের মানুষ তাই অপেক্ষায়, প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবে কতটা রূপ পায়।  বারাসত মেডিকেল কলেজ।-ফাইল চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)