• বহিরাগত ভোটার অন্তর্ভুক্তির গেরুয়া ষড়যন্ত্র বানচাল বাংলায়
    বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বহিরাগত ভোটার অন্তর্ভুক্তির গেরুয়া ষড়যন্ত্র ব্যর্থ বাংলায়! ‘ফর্ম ৬’-এর মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকায় নাম তোলা নতুন ভোটারের সংখ্যা রাজ্যে সর্বনিম্ন। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে এই তথ্য। রাজ্যে দুই দফার ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, ‘ফর্ম ৬’-এর মাধ্যমে মোট সাড়ে সাত লক্ষ নাম পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসআইআর হওয়া রাজ্যগুলির মধ্যে যা কি না সর্বনিম্ন!

    পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, কেরল, তামিলনাড়ু সহ মোট সাতটি রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে কমিশন। উত্তরপ্রদেশে মোট ৯২ লক্ষ ৪০ হাজার নতুন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে চূড়ান্ত তালিকায়। তামিলনাড়ুতে সেই সংখ্যাটা ৩৫ লক্ষ। কেরলে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি হয়েছে ২০ লক্ষ ৪০ হাজার। এরপরই রয়েছে রাজস্থান। সেখানে মোট ১৫ লক্ষ ৪০ হাজার নতুন নাম ঢুকেছে ভোটার তালিকায়। এছাড়াও মধ্যপ্রদেশে ১২ লক্ষ ৯০ হাজার এবং গুজরাতে ১২ লক্ষ ২০ হাজার ভোটার ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে শেষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। মোট সাড়ে ৭ লক্ষ নতুন ভোটার এবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। শুধু ফর্ম-৬ নয়, ফর্ম-৮ পূরণ করে স্থানান্তরিত হিসাবেও ভোটাররা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তালিকায়। তবে সেই সংখ্যা নগণ্য। 

    এসআইআরের ইনিউমারেশন পর্বে নতুন নাম তোলার আবেদন কার্যকর হয়নি। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর থেকে সেই আবেদন গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছিল রাজ্যে। জানা গিয়েছে, ইনিউমারেশন পর্বে জমা পড়েছিল মোট ৩ লক্ষ ২২ হাজার ২১২টি ফর্ম। পরবর্তী পর্যায়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়। এরপরও মনোনয়ন পর্ব পর্যন্ত ‘ফর্ম ৬’ (তালিকায় নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত) জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল। প্রথম দফার মনোনয়ন পর্ব শেষের দিনকয়েক আগে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল অভিযোগ তোলে, উত্তরপ্রদেশ-বিহারের ভোটারদের নাম বাংলার তালিকায় ঢোকাতে চাইছে বিজেপি! গেরুয়া শিবিরের তরফে গুচ্ছ গুচ্ছ ৬ নম্বর ফর্ম জমা দেওয়ার ছবিও সামনে আসে। সশরীরে কমিশনের দপ্তরে গিয়ে এমন অভিযোগে সরব হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। শুধু তা-ই নয়, এমন অভিযোগ ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল রাজ্য মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তরের সামনের এলাকা। শেষে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনা হয়। 

    শেষপর্যন্ত নয়া ভোটার অন্তর্ভুক্তির যে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, তাকে নৈতিক জয় হিসাবেই দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের দাবি, ‘বিজেপির চক্রান্ত ফাঁস হয়ে গিয়েছে। সেই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনলে কমিশনকে দিয়ে বাংলায় ভিনরাজ্যের ভোটার ঢোকানোর গেরুয়া চক্রান্ত এতদিনে সফল হয়ে যেত। তৃণমূল কংগ্রেসের জোরালো প্রতিবাদের কারণেই তা ব্যর্থ হয়েছে।’    
  • Link to this news (বর্তমান)