আইপ্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের স্ত্রী ও ভাইকে তলব করল ইডি, আজ মামলার শুনানি
বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: ভোট পরামর্শদাতা সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আইপ্যাক) মামলায় ইডি তলব করল সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের স্ত্রী ও তাঁর ভাইকে। আজ বুধবার প্রতীকের স্ত্রী বার্বি জৈন ও ভাই পুলকিত জৈনকে দিল্লিতে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। টাকা পাচার সংক্রান্ত মামলায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় কেন্দ্রীয় এজেন্সি। ভোটের আগে আইপ্যাকের এক কর্ণধার গ্রেপ্তার, আর এক কর্ণধারের স্ত্রী এবং ভাইকে তলবের মধ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকের আইপ্যাকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চ্যান্ডেলকে সোমবার গ্রেপ্তারের পর মধ্যরাতে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত সেশন জাজের বেঞ্চে পেশ করা হয়। ভোর পর্যন্ত শুনানির পর তাঁকে ১০দিনের ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এদিকে, আজ শীর্ষ আদালতে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে রয়েছে আইপ্যাক মামলায় ইডি’র দায়ের করা আবেদনেরও শুনানি। কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাকের কর্তাব্যক্তিদের একাংশ জড়িত, এই অভিযোগে সম্প্রতি কলকাতায় হানা দিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট (ইডি)। সেখানে আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে গিয়ে ইডির তদন্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাধা দিয়েছেন বলেই অভিযোগ। তাই মুখ্যমন্ত্রী সহ রাজ্য পুলিশের কয়েকজনের নামে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে ইডি। ইডির তরফে আদালতে দাবি করা হয়েছে, টাকা পাচারের জন্য একাধিক কৌশল অবলম্বন করা হয়। এজেন্সির আইনজীবী আদালতে বলেন, আইপ্যাকে আসা টাকার ৫০ শতাংশ নেওয়া হয়েছে চেক বা ব্যাঙ্কিং চ্যানেলে। বাকি ৫০ শতাংশ নগদে নেওয়া হয়েছে। এই নগদ হাওলার মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে। এমনকী আন্তর্জাতিক হাওয়ালা রুট ব্যবহার করা হয়েছে বলে এজেন্সি দাবি করেছে। অন্তত ৫০ কোটির তছরূপের বিষয় সামনে এসেছে বলে আদালতে জমা দেওয়া ফরোয়ার্ডিংয়ে জানিয়েছে এজেন্সি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখান থেকেই ভিনেশের নাম সামনে আসে। যদিও ভিনেশের আইনজীবী আদালতে দাবি করেছেন, টাকা লেনদেন ও পাচারে জড়িত এমন কোনও নথি ইডি দেখাতে পারেনি। মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।