প্রীতেশ বসু, শ্রীকান্ত পড়্যা, মণিরাজ ঘোষ, সুদীপ্ত কুণ্ডু: হাওড়া, তমলুক, পিংলা: বাংলা দখলের লক্ষ্যে ‘নোংরা খেলায়’ নেমেছে বিজেপি। গণতন্ত্র হত্যা করার এমন ‘নোংরা খেলা’ বঙ্গবাসী আগে কখনও দেখেনি। কমিশনকে কাজে লাগিয়ে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডের জন্য মঙ্গলবার বিজেপিকে গণদেবতার আদালতে দাঁড় করালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসী নেত্রীর হুংকার, ‘দুরন্ত খেলা হবে। এই খেলায় জিতব আমরাই। ভোটবাক্সে মানুষ তোমাদের অত্যাচার-অনাচারের বিরুদ্ধে খেলবে। যে খেলায় তোমরা বাংলা থেকে পগারপার হয়ে যাবে।’
মঙ্গলবার হাওড়া এবং দুই মেদিনীপুরে দলের প্রার্থীদের হয়ে নির্বাচনি জনসভা করেন মমতা। প্রতিটি সভায় মা-বোনেদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তীব্র গরমের মধ্যে দূরদূরান্ত থেকে সভায় আসার জন্য তাঁদের প্রণাম জানান মমতা। গণতান্ত্রিকভাবে এই লড়াই নির্বাচনের দিন পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার ডাক দেন তিনি। বলেন, ‘পুলিশকে কাজে লাগিয়ে সুকৌশলে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে চাইছে কমিশন।’ এরপরই তিনি বিস্ফোরক দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, ‘তৃণমূলের বুথ এজেন্টদের আগেই গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। বলা হয়েছে, বিজেপির কথা না শুনলে ফল ভালো হবে না। তাই আমাদের ভোটের দিনের জন্য আরও একদল কর্মী নিয়ে তৈরি থাকতে হবে। চ্যালেঞ্জ করে বলছি, এত কিছু করেও কোনো লাভ হবে না। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই চড়াই-উতরাই পার করব আমরা। বাংলা আবার তৃণমূলই দখল করবে।’
তবে অন্যায়ভাবে তাঁর দলের একজনকেও গ্রেপ্তার করলে হাজারে হাজারে মানুষ প্রতিবাদ গড়ে তুলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা। কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাপ্পা ভোট করানোর চেষ্টা করলে মা-বোনেদের রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। এসআইআরে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নামে মিসক্রিপেন্সি হয়েছে। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, আমরা সেই নাম তুলবই।’ এবারের ভোটে বিজেপির পাশাপাশি ‘ভ্যানিশ কুমারের’ কমিশনের সঙ্গেও রাজ্যের মানুষকে লড়াই চালাতে হচ্ছে বলে আক্রমণ শানান তিনি। ভোটদান এবং গণনা প্রক্রিয়া শ্লথ করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও সরব হন।
জননেত্রীর আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দিল্লি থেকে আসা ‘আমদি প্রমোদি বাবুরা’ও। তাঁদের বর্গির সঙ্গে তুলনা করে মমতা বলেন, ‘ওদের মতো অত্যচারী-অনাচারী, স্বৈরাচারী, দুর্নীতিগ্রস্ত, ডাকাতদের সরকার আগে কখনও দেখিনি। এখানে আসছে বাংলার মানুষের ভাষা, অধিকার, স্বাধীনতা সব কেড়ে নিতে।’ মেদিনীপুরের মানুষের ওড়িশায় গিয়ে অত্যাচারিত হওয়ার বিরুদ্ধেও সোচ্চার হন তিনি।
জন্মদিনে বি আর আম্বেদকরকে স্মরণ করে বিজেপির বিরুদ্ধে দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা বিঘ্নিত করার অভিযোগ তুলছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বিজেপি বিষবৃক্ষের ধর্ম মানুষের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। কখনও হিন্দু-মুসলমানের নাম বাদ দিচ্ছে, কখনো তফসিলি, আবার কখনও আদিবাসীর নাম বাদ দিচ্ছে।’ এদিন সবাইকে বাংলা নববর্ষ এবং বাংলা দিবসের শুভেচ্ছা জানান মমতা। নতুন বছরে গণতান্ত্রিকভাবে বিজেপিকে উৎখাত এবং মোদিকে গদিচ্যুত করার শপথ নিতে আহ্বান জানান তিনি।