জল কিনে খাওয়ার দিন শেষ শীঘ্রই, ২০০ কোটির জল প্রকল্পই তৃণমূলের বড়ো বাজি
বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পানীয় জলসংকটে জেরবার ছিল উত্তর দমদম। বাম জমানা থেকে প্রয়োজনের অর্ধেক জল পেতেন না শহরবাসী। ফি বছর গরমকালে উত্তর দমদম বিধানসভা কেন্দ্রের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের কাছে কেনা জলই ছিল একমাত্র ভরসা। এবার বদলাবে চিত্র। প্রায় ২০০ কোটি টাকার নতুন জল প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী দু-মাসের মধ্যে ওই নতুন প্রকল্পের জল বাড়ি বাড়ি পৌঁছবে। প্রত্যেক শহরবাসী প্রয়োজনের প্রায় দ্বিগুণ জল পাবেন। আর এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে ভোট ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও বিরোধীদের দাবি, আদৌ প্রকল্প কবে বাস্তবায়িত হবে সেটাই দেখার। সরকারি টাকা কতটা খরচ হয়েছে, কতটা নেতাদের পকেটে ঢুকেছে সেটাই বড়ো প্রশ্ন।
দমদম উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় মোট দুটি পুরসভা। কলকাতা এয়ারপোর্ট লাগোয়া এই দুই পুরসভা এলাকার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু বাম জমানা থেকেই পর্যাপ্ত পানীয় জলের ঘাটতি চোখে পড়ার মতো। উত্তর দমদম পুরসভায় ওয়ার্ড মোট ৩৪টি। প্রতিদিন জলের চাহিদা ৪৬.০৬ মিলিয়ন লিটার (এমএলডি)। সেই প্রয়োজনের অর্ধেক জলও পায় না উত্তর দমদম পুরসভা। ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কেএমডিএর হাত ধরে তৈরি ট্রান্সমিউনিসিপাল ওয়াটার প্রোজেক্ট এবং পুরসভার নিজস্ব ভূগর্ভস্থ পাম্প থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৬.৫৩ এমএলডি জল পায়। গরম ও ঠান্ডার সময় ট্রান্সমিউনিসিপাল প্রোজেক্ট থেকে জলের জোগান কমলে তখন সরবরাহও হ্রাস পায়। কমে যায় দৈনিক গড়ে আরো ৫-৬ এমএলডি। ফলে সেইসময় প্রয়োজনের অর্ধেক জলও মেলে না। ফলে চার বেলা নিয়ম মেনে পুরসভা থেকে জল ছাড়া হলেও তা ঠিকমতো পৌঁছায় না অর্ধেক জায়গায়। কোথাও জল পৌঁছালেও তা সরু সুতোর মতো জল পড়ে! শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পানীয় জলের সমস্যা থাকলেও ৬, ৯, ২৩, ২৫ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি। প্রায় একই সমস্যা নিউ বারাকপুরেও।
এর সমাধানে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উদ্যোগে রাজ্য সরকার বড়ো প্রকল্প নেয়। পানিহাটিতে গঙ্গা থেকে জল তুলে তা সরাসরি এই দুই পুর এলাকায় নিয়ে গিয়ে শোধনের পর তা বাড়ি বাড়ি পাঠানোর কাজও প্রায় শেষপর্যায়ে। পাইপ লাইন বসানোও প্রায় শেষ। এই প্রকল্পে উত্তর দমদমের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা এবং নিউ বারাকপুরের জন্য খরচ হচ্ছে ৫২ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের উদ্বোধন হতে পারে আর মাত্র মাস দুই পরেই। প্রকল্পটি চালু হলে উত্তর দমদমে ৩৭.৮৫ এমএলডি জল আসবে। ফলে পরিস্রুত পানীয় জলের পরিমাণ হবে ৬৪.৩৮এমএলডি।
তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা ভোটপাখি নই কিংবা মিথ্যে প্রতিশ্রুতি বা প্রলোভন দিই না। বাস্তবের মাটিতে উন্নয়নের কাজই প্রমাণ করবে কারা দমদম উত্তর বিধানসভা এলাকার মানুষের জন্য ভাবেন।’
অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী সৌরভ শিকদার বলেন, ‘কেন্দ্রের জেএনএনইউআরএম স্কিম বহু পুরানো।’ ওই স্কিমে নতুন জল প্রকল্প তৈরিতে বিলম্ব নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। সিপিএম নেতা শিবশংকর ঘোষ বলেন, ‘সময়ের নিয়মে জনসংখ্যা বাড়লে পরিষেবা বৃদ্ধির বিষয়টি ভাবতে হয়।’ পানীয় জলসংকট দূর করার ব্যাপারে তৃণমূল সরকারের এই উদ্যোগ আরো আগে নেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।