• ইংরেজ আমলে বন্দিদের আইনি কাগজ প্রেসিডেন্সি জেলের আলমারিতে পড়ে, মিলতে পারে বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীর নথিও
    বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইংরেজ আমলে ব্যাঙ্কশাল আদালত থেকে বন্দিদের প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে আসার নানা আইনি কাগজপত্র, রেজিস্টার প্রভৃতি ডাঁই হয়ে পড়ে রয়েছে সংশোধনাগারের আলমারিতে। তালাবন্দি অবস্থায় ওইসব নথি নষ্ট হতে বসেছে। ৮‑১০টি আলমারিতে থাকা নথিগুলি ঝাড়াই-বাছাই করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জেল সূত্রের খবর। অনেকেরই বক্তব্য, ওই সমস্ত নথির মধ্যে খুঁজলে হয়ত বেরিয়ে আসতে পারে বিভিন্ন স্বাধীনতা সংগ্রামীর তথ্যও। তাই ওইসব নথি দ্রুত উদ্ধার করে সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া দরকার বলে মনে করেন অনেকেই। ব্যাঙ্কশাল আদালতের প্রবীণ আইনজীবী যামিনীরঞ্জন ঘোষ বলেন, বন্দিদের আদালত থেকে জেলে এবং জেল থেকে আদালতে নিয়ে আসা যাওয়ার পথে প্রয়োজনীয় আইনি নথিকে বলা হয় ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’। সেখানে বন্দিদের নামধাম, কেস নম্বর, কোনও ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সবিস্তার উল্লেখ থাকে। প্রবীণ আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, কলকাতার বুকে প্রধান ফৌজদারি আদালতটি হল ব্যাঙ্কশাল আদালত, যার অধীনে পড়ে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার। ইংরেজ আমলে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে নানা প্রতিবাদ, মিছিল, মিটিং, রাজনৈতিক সমাবেশ হতো এই কলকাতার বুকে। সেই আন্দোলন করার জন্য বহু রাজনৈতিক নেতা‑নেত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের তোলা হতো ব্যাঙ্কশাল আদালতে। তাঁদের সম্পর্কে আদালতের নির্দেশের সেই আইনি নথি রয়ে গিয়েছে জেলের আলমারিতে। আবার তখন বহু বিপ্লবী আগ্নেয়াস্ত্র সহ ইংরেজ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন। তাঁদের অনেকেরই বিচার হয়েছিল এই ফৌজদারি আদালতে। স্বাভাবিকভাবে তাঁদের নথিও রয়ে গিয়েছে জেলের অন্দরে। পাশাপাশি সাধারণ সব অপরাধের নথি তো রয়েছেই। আলিপুর আদালতের প্রবীন আইনজীবীদের একাংশ জানান, আলিপুর জজ কোর্টে রয়েছে একটি বিচার সংগ্রহশালা। সেখানে স্বাধীনতা আন্দোলনের বহু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও দলিল দস্তাবেজ রয়েছে। আছে আলিপুর বোমা মামলার নানা নথি সহ বিপ্লবীদের ফটোগ্রাফও। যে এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়েছিল, সেই এজলাসকেই অক্ষত রেখে গড়ে ওঠে ওই সংগ্রহশালা। এই সংগ্রহশালাতেও রয়েছে সেই সময়কার বেশ কিছু আইনি নথি। তাই প্রেসিডেন্সি জেলের আলমারিতে বন্দি থাকা ওইসব নথি থেকেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। সেগুলি আগামী দিনে ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করেন ব্যাঙ্কশাল কোর্টের আইনজীবী সংগঠনের কর্তা প্রবীর মুখোপাধ্যায়। রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক শান্তনু রায় বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলের অন্দরে পড়ে থাকা নানা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যদি সংগ্রহশালায় ঠাঁই পায়, তাহলে সেটা খুব ভালোই হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)