৫ বছরে ৭৪৩ কোটি টাকার উন্নয়ন, ‘রিপোর্ট কার্ডে’ চমক অদিতির, আগামীর জন্য ১৫টি অঙ্গীকার প্রকাশ
বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: তিনি সেলিব্রেটি। বাংলার নামকরা সংগীতশিল্পী। পাঁচবছরের বিধায়ক। দ্বিতীয়বার রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে সেই অদিতি মুন্সিকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে বলেছেন, ‘অদিতি আমার প্রিয় প্রার্থী’। নিজের শিল্পকর্ম তো আছেই। কিন্তু বিধায়ক হিসেবে গত পাঁচবছরে তিনি এলাকার মানুষের জন্য কী উন্নয়ন করেছেন, ভোটের মুখে তার পূর্ণাঙ্গ হিসেব দিচ্ছেন সাধারণ মানুষকে। তিনি কাজের খতিয়ান দিয়ে বই আকারে একটি ‘রিপোর্ট কার্ড’ তৈরি করেছেন। তাতে চমক। কারণ ৫ বছরে তিনি ৭৪৩ কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন। সেই রিপোর্ট কার্ড দলীয় কর্মীদের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে বাড়ি বাড়ি। সেই সঙ্গে আগামী দিনে এলাকার মানুষের জন্য তিনি কী কাজ করবেন, তার জন্যও ১৫টি অঙ্গীকার করেছেন। সেই অঙ্গীকারও বই আকারে পৌঁছে দেওয়া হবে সকলের বাড়ি। বিধায়কের কথায়, ‘মুখের কথা নয়, আমাদের কাজ কথা বলে।’
সোমবার সন্ধ্যায় বাগুইআটিতে নিজের কাজের উন্নয়ন নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন অদিতি মুন্সি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্বামী তথা বিধাননগরের মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী সহ দলীয় নেতা-নেত্রীরা। সেখানেই রিপোর্ট কার্ড এবং অঙ্গীকার প্রকাশ করা হয়। ওই রিপোর্ট কার্ডে বলা হয়েছে, গত ৫ বছরে রাজারহাট-গোপালপুরের উন্নয়নে মোট ৭৪৩ কোটি ৮১ লক্ষ টাকার কাজ হয়েছে। এর মধ্যে বিধায়ক তহবিলের টাকা রয়েছে ৩ কোটি ২৯ লক্ষ। এই ৭৪৩ কোটি টাকার উন্নয়নের মধ্যে ৩৯১ কোটি টাকার জল প্রকল্প, ২৬০ কোটির রাস্তা-নিকাশি, ৮ কোটি টাকার আলো, ৬ কোটি টাকার আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুল, আড়াই কোটি টাকার সল্টলেক-কেষ্টপুর ব্রিজ, ৪ কোটি টাকায় আরবান স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি, ৩ কোটি টাকায় দমকল কেন্দ্র (কাজ চলছে) এবং সৌন্দর্যায়ন সহ বহু কাজ রয়েছে।
আগামী দিনের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তাঁর ১৫টি অঙ্গীকারেও রয়েছে চমক। তৈরি করা হবে ১০০ বেডের উন্নত হাসপাতাল। সরকারি বাংলা স্কুলের উন্নয়নের সঙ্গে ৫টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল তৈরি হবে। প্রত্যেক বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া। অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম তৈরি। নাগরিকদের সুবিধার জন্য চালু করা হবে এমএলএ ই-অফিস। মহিলাদের জন্য তৈরি করা হবে পিঙ্ক টয়লেট। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ফ্রি কোচিং, পড়ার উপকরণ ও বিশেষ মেন্টরের ব্যবস্থা করা। পোষ্যদের জন্য নতুন প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি। ভিআইপি রোড সাবওয়েতে এসকেলেটর, সিসি ক্যামেরা। দেশবন্ধুনগর হাসপাতালের উন্নতি। বর্জ্য ও প্লাস্টিকমুক্ত গোপালপুর। এআই সেন্টার তৈরি সহ সব অঙ্গীকার পূরণ করার আশ্বাস দিয়েছেন বিধায়ক। অদিতি মুন্সি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর প্রেরণায় আমরা যে উন্নয়ন করেছি, সেটাই মানুষের সামনে তুলে ধরলাম। আর অঙ্গীকার কোনও প্রতিশ্রুতি নয়। ওটা আমাদের উন্নয়নেরই দ্বিতীয় পরিকল্পনা। মানুষের কল্যাণেই তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হবে।