• ব্যান পিরিয়ড: ২ মাস বন্ধ সমুদ্রে মাছ ধরা
    এই সময় | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, কাকদ্বীপ: মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে শুরু হলো ফিশিং ব্যান পিরিয়ড। ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত আগামী ৬১ দিন সমুদ্রে মাছ ধরার উপরে জারি থাকবে এই নিষেধাজ্ঞা। এই সময়ে মৎস্যজীবীরা ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারবেন না। মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির জন্য ইতিমধ্যেই জেলা মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে মৎস্যজীবী সংগঠন ও ট্রলার মালিকদের ব্যান পিরিয়ড মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    যে সব ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিল, সোমবার রাতের মধ্যেই তারা ঘাটে ফিরে এসেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সহকারী মৎস্য অধিকর্তা সুরজিৎ বাগ বলেন, ‘এই ফিশিং ব্যান পিরিয়ড থাকলে মাছের উৎপাদন বাড়ে। নিষেধাজ্ঞা যাতে অমান্য করে কোনও ট্রলার যাতে সমুদ্রে না যায় সে দিকটি লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। বিধিনিষেধ না মানা হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে আগামী দু’মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় চিন্তিত মৎস্যজীবীরা। মৎস্যজীবীদের কথা ভেবে ২০২৪–এর রাজ্য বাজেটে ব্যান পিরিয়ডের দু’মাস ৫ হাজার টাকা করে ভাতা ঘোষণা করে সরকার। নাম দেওয়া হয় ‘সমুদ্রসাথী’। কিন্তু মৎস্যজীবীদের জন্য এখনও পর্যন্ত ভাতা চালু না হওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মৎস্যজীবী সংগঠনের কর্মকর্তারাও।

    মৎস্য দপ্তর সূত্রের খবর, সমুদ্রতট থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মাছ ধরার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকছে। মূলত মাছের প্রজনন এবং উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সমুদ্রে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা বাম আমল থেকেই চলে আসছে। কাকদ্বীপ ফিশারমেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজন মাইতি বলেন, ‘ব্যান পিরিয়ডের জন্য সরকারি নির্দেশিকা আমরা মেনে চলব। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে নতুন করে কোনও ট্রলার নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরতে যাবে না।’

    রাজ্যের চারটি জেলা উত্তর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও হাওড়ার প্রায় ৩ লক্ষ প্রান্তিক মানুষ গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া পেশায় যুক্ত। ২০২৪ সালের রাজ্য বাজেটে সমুদ্রসাথী প্রকল্পের আওতায় সামুদ্রিক মৎস্যজীবীদের এনে দু’মাসের ভাতা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু গত দু’বছরে তালিকা সম্পূর্ণ না হওয়ায় মৎস্যজীবীদের ভাতা দেওয়া হয়নি বলে জানাচ্ছেন সংগঠনের কর্মকর্তারা। বিজন মাইতি বলেন, ‘সমুদ্রসাথী প্রকল্পে তিন লক্ষ মৎস্যজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে লক্ষ্যমাত্র রাখা হয়েছিল। সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত তালিকা এখনও তৈরি করা হয়নি। এ বছরও ভাতা আদৌ পাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে!’

    অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের সম্পাদক মিলন দাস বলেন, ‘দু’মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের সিস্টেমের ভুলে বায়োমেট্রিক কার্ডে ভুল ধরা পড়ে। দ্রুত ভাতা দেওয়া না হলে মৎস্যজীবীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে আমাদের সংগঠন।’

  • Link to this news (এই সময়)