• ‘বঙ্গভঙ্গ’ না করেই গোর্খা সমস্যা মিটবে, শাহি বার্তা, কটাক্ষ তৃণমূলের
    এই সময় | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গকে ভেঙে বারবার পৃথক রাজ্যের দাবি উঠেছে বিজেপির উত্তরবঙ্গের নেতাদের একাংশের মধ্যে থেকেই। বিজেপিতে থাকার সময়ে জন বারলা, বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার মতো পদ্ম–নেতারা বারবার উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করার দাবি তুলেছেন প্রকাশ্যে। সরাসরি তাঁদের দাবি কখন‍ও উড়িয়ে দিতে দেখা যায়নি নরেন্দ্র মোদী অথবা অমিত শাহের মতো কোনও শীর্ষ বিজেপি নেতাকে। মঙ্গলবার ‘বঙ্গভঙ্গ’ ইস্যুতে প্রথম মুখ খুললেন অমিত শাহ।

    স্পষ্ট ভাষায় তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে যতই পৃথক রাজ্যের দাবি উঠুক, বাংলা ভাগ কোনও অবস্থাতেই হচ্ছে না। তৃণমূলের অবশ্য আশঙ্কা, জম্মু–কাশ্মীর এবং লাদাখের মতো উত্তরবঙ্গকেও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে গড়ার ছক কষছেন শাহরা। মাসখানেক আগে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘বিহারের দু’টি জেলা আর উত্তরবঙ্গের দু’টি জেলাকে ভেঙে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গড়ার ছক কষেছে দিল্লি। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ওদের এই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে গিয়েছে।’

    মঙ্গলবার দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের নির্বাচনী সভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন— বিভাজন নয়, উন্নয়ন নীতির উপরেই এ বার উত্তরবঙ্গে বাজি ধরেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবির ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গে কী কী উন্নয়ন করবে, তার ফিরিস্তি গত ক’দিন ধরেই বিভিন্ন জনসভা থেকে দিয়ে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ। এ দিনও সেই ট্রেন্ড বজায় রেখে শাহ উত্তরবঙ্গে এইমস, আইআইটি এবং ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    বিজেপির নির্বাচনী সংকল্পপত্রেও এই প্রতিশ্রুতিগুলির উল্লেখ আছে। তবে পাহাড়ে গোর্খাল্যান্ডের দাবির সমাধান নিয়ে সংকল্পপত্রে স্পষ্ট কিছু বলেনি পদ্ম ব্রিগেড। গঙ্গারামপুরের সভা থেকে শাহ এ দিন গোর্খা ইস্যু উত্থাপন করে বলেন, ‘বাংলাকে না ভেঙেই গোর্খা সমস্যার সমাধান আমরা সাংবিধানিক ভাবে করে দেবো।’ তবে তার কোনও রুটম্যাপ এ দিন তিনি দেননি। বিজেপির এক রাজ্য নেতার কথায়, ‘ফাঁকা আওয়াজ দেওয়ার লোক অমিত শাহ নন। তাঁর মাথায় গোর্খা সমস্যা সমাধানের নির্দিষ্ট কোনও সূত্র আছে বলেই অমিতজি এ কথা বলেছেন।’

    তাৎপর্যপূর্ণ হলো, পশ্চিমবঙ্গের যে অংশে দাঁড়িয়ে এ দিন তিনি বাংলা ভাগ না–করার বার্তা দিয়েছেন, সেখা‍নে পৃথক রাজ্যের দাবি ওঠেনি। এই দাবি সব থেকে বেশি জোরালো দার্জিলিং লোকসভা এলাকায়। আজ, বুধবার সেখানেই নির্বাচ‍নী সভা করার কথা শাহের। সেখানে গিয়ে গোর্খা আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী বলে‍ন, সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

    শিলিগুড়ির এক বিজেপি নেতার কথায়, ‘পাহাড়ের ভাবাবেগ রক্ষা এবং সমতলের মানুষের মন জয়— দুই লক্ষ্যেই এই কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন শাহ। মঙ্গলবার সমত‍লের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি পশ্চিমবঙ্গের অখণ্ডতা অটুট রাখার কথা বলেছেন। বুধবার দার্জিলিং থেকে পাহাড়ের ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা নিশ্চিত ভাবেই করবেন। এমন কোনও ‍প্যাকেজের প্রতিশ্রুতি উনি পাহাড়বাসীকে দিতে পারেন, যা পৃথক রাজ্যের থেকেও লোভনীয়।’ যদিও তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর কটাক্ষ, ‘বিজেপি কি উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করতে চাইছে? ঘুরিয়ে বঙ্গভঙ্গ করার ছক আর কী। একই কায়দায় লাদাখকে আলাদা করেছে। বাংলার মানুষ এ সব মে‍নে নেবেন না।’

  • Link to this news (এই সময়)