এই সময়: বাঙালি অস্মিতা রক্ষা যে বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের মূল ইস্যু, আগেই স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার বিজেপিকে রাবণের আসনে বসিয়ে দিলেন তিনি। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক এবং হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে নির্বাচনী জনসভায় মমতার বলেন, ‘রাবণ যে ভাবে সীতাকে হরণ করেছিল, বিজেপি ঠিক সেই ভাবেই আপনাদের সব অধিকার হরণ করেছে। আপনাদের ১০০ দিনের কাজের টাকা হরণ করেছে, ঘর তৈরির টাকা হরণ করেছে, আর এখন হরণ করতে চাইছে আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।’
এর পরে বিজেপিকে উদ্দেশ করে তাঁর প্রশ্ন, ‘রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশে বাংলার মানুষ খুন হচ্ছেন, দিল্লিতে ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এখানে এসে বাঙালিদের ভোট চাইছেন। বাঙালি মেরে আপনারা সোনার বাংলা করবেন? আগে দিল্লি সামলান, তারপর বাংলার দিকে তাকান।’
উদয়নারায়ণপুরের সভায় মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘এখানকার বাঙালিদের নাম আপনারা কেটে ভিন রাজ্যের ভোটারদের নাম তালিকায় ঢুকিয়ে বাংলা দখলের ছক কষছেন। এ ভাবে বাংলা দখল করা যাবে না।’ এর পরেই জনতার উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘আপনার নাম কেটে বহিরাগতরা ভোট দিতে এলে ছেড়ে দেবেন? ভাল করে কান মুলে দেবেন। আর বিজেপি নেতাদের এমন শিক্ষা দেবেন, যাতে তাঁরা আর কখনও বাংলাকে চ্যালেঞ্জ করতে না-পারে।’ বেকারত্ব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে তৃণমূল নেত্রীর প্রশ্ন, ‘বাংলায় এসে বলছেন সব শূন্যপদ পূরণ করবেন। কিন্তু গত ১২ বছরে দেশে কোটি কোটি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কি আপনি পূরণ করতে পেরেছেন?’
নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফা চেয়েছেন মমতা। তাঁর প্রশ্ন, ‘নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলে ২০২৪–এর ভোটার তালিকা অনুযায়ী কী ভাবে প্রধানমন্ত্রী হলেন?’ রাজ্যের প্রায় সাড়ে পাঁচশো অফিসারকে ভিন রাজ্যে ডিউটিতে পাঠানো প্রসঙ্গে মমতা বলছেন, ‘শান্তি বজায় রাখতে হলে বাংলার পুলিশকেই বিশ্বাস করতে হবে। তার বদলে সেন্ট্রাল ফোর্স আনা হচ্ছে।’
বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা যদিও পাল্টা বলছেন, ‘কোনও রাজ্য থেকে একজনও বাঙালিকে তাড়িয়ে দেওয়া বা খুন করা হয়নি। যাদের তাড়ানো হয়েছে, তারা বিদেশি মুসলিম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশিদের ভোটে জেতেন, তাই এ সব বলছেন।’