আজকাল ওয়েবডেস্ক: নতুন বছরের প্রথমদিনে এক গ্রামীন মেলা। তবে স্বকীয়তায় আর পাঁচটা মেলার থেকে কিছুটা হলেও আলাদা। কবন্ধের পুজো এবং তাকে ঘিরে মেলায় মাতল রাজ্যের বয়নশিল্পের প্রাণকেন্দ্র ফুলিয়া। শান্তিপুর থানার ফুলিয়ার তালতলা এলাকায় প্রায় ষাট বছরের বেশি সময় ধরে এই কবন্ধের পুজো এবং মেলার আয়োজন হয়ে আসছে।
এই পুজো করেন স্থানীয় বাসিন্দারাই। যার মাথা থাকেনা, চোখ, নাক ইত্যাদি ঢুকে থাকে শরীরের একটু নীচের দিকে। গলা থাকে না। পাঁচের দশকের দিক থেকেই এই পুজো শুরু হয় যাদব সন্ন্যাসীর হাত ধরে, এমনটাই জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। পয়লা বৈশাখের দিন এলাকায় প্রায় ষাট বছরের বেশি সময় ধরে এই কবন্ধের পুজো এবং মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। যা বর্তমানে খ্যাতি পেয়েছে ভূতের মেলা নামেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, এক সময়ে এই পুজো তাঁরা করে এসেছেন ওপার বাংলায়। ওপার বাংলা থেকে এদেশে চলে আসার পরে যখন তাঁদের পূর্ব পুরুষেরা এখানে বসবাস শুরু করেন সেই সময়ে এখানেও এই পুজোর প্রচলন করেন। চৈত্রমাসেই শুরু হয়ে যায় যাবতীয় উদ্যোগ। শিবের পাটা মাথায় নিয়ে ঘোরেন এলাকার সন্ন্যাসীরা।
বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করেন 'ভুক্তা' এর মধ্যে থাকে চাল, ডাল, আনাজ ইত্যাদি। দিনের শেষে কোনো একটি জায়গায় বসে তা রান্না করে খান তাঁরা। এই কয়েকদিন নিরামিষ খান তাঁরা। এখানেই পয়লা বৈশাখের দিনই পুজিত হয় একটি কবন্ধ মুর্তি। মাটির ওপরেই শায়িত থাকে সেই মুর্তি। তৈরিও হয় এখানেই। তৈরি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই পুজোকে ঘিরে মেলাও বসে। ভূতের মেলা নামে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই মেলায় চত্বরে প্রথম দিনে ভিড় করেন বহু মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, "কথিত আছে, দেবরাজ ইন্দ্র বজ্রাঘাত করেছিলেন, সেই কারনে এক রাজার (অন্যমতে রাজপুত্র) মস্তক তাঁর দেহের ভেতরের অংশে ঢুকে যায়। তিনি কবন্ধরূপ পান। ইন্দ্র তাকে বলেন কবন্ধমাটিতে পড়ে থাকলেও সে হাত বহুদূর প্রসারিত করে। খাবার সংগ্রহ করতে পারবে। রাম এসে তাঁর অঙ্গচ্ছেদ করলে তাঁর মুক্তি হবে। এখানে সেই কবন্ধমূর্তিই পুজিত হয় দেবতাজ্ঞানে।" কিন্তু কি কারনে এখানে কবন্ধ মূর্তি পুজিত হয় তাঁর সঠিক কারণ অবশ্য জানেন না কেউই। স্থানীয়রা বলেন, "এখানে এই পুজোর সঠিক কারণ জানেন না অনেকেই। তবে ভূতকে তো শিবের চ্যালা হিসাবেই ধরা হয়। সেখানে মনে করা যায় নতুন বছর শুরুর দিনে শুভশক্তিকে আহ্বান জানানোর জন্যই এই পুজো।