• পুনর্মুষিক ভব: ভোটের মুখে বিরাট ভাঙন, হুমায়ুনের নতুন পার্টি থেকে দলে দলে সবার তৃণমূলে যোগ
    ২৪ ঘন্টা | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • অনুপ দাস: ভোটের মুখে মুর্শিদাবাদের দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবিরের নতুন দল 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি' (AJUP)-তে বড়সড় ভাঙন। নদীয়ার কালীগঞ্জ ব্লকে এই দল থেকেই একগাদা লোক যোগ দিল তৃণমূলে। গতকালই এলাকায় বড়সড় জনসভা করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু সেই সভার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর দলের শীর্ষ ব্লক নেতৃত্ব দলত্যাগের ঘোষণা করলেন। আজ কৃষ্ণনগরের তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্রের হাত থেকে পতাকা তুলে নিয়ে শাসকদলে যোগ দিলেন কালীগঞ্জের AJUP নেতৃত্ব।

    এক নজরে দলবদল

    কালীগঞ্জ ব্লকে হুমায়ুন কবিরের দলের যে চারজন হেভিওয়েট নেতা আজ তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন তাঁরা হলেন:
    ১. আমির হোসেন: কালীগঞ্জ ব্লক সভাপতি (AJUP)।
    ২. ইউসুফ শেখ: ব্লক যুব সভাপতি (AJUP)।
    ৩. ওয়াসিম রাজ শেখ: ব্লক যুব সহ-সভাপতি (AJUP)।
    ৪. ফাইজুল হক: পলাশী ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি (AJUP)।

    সভার পরেই সিদ্ধান্তবদল?

    রাজনৈতিক মহলে এই দলবদল নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, গতকাল অর্থাৎ সোমবার কালীগঞ্জ ব্লকে হুমায়ুন কবির যখন হুঙ্কার দিচ্ছিলেন, তখন এই চারজন নেতাই তাঁর মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। জনসভাকে সফল করতে তাঁরা কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে ছবিটা আমূল বদলে যায়। তৃণমূল সূত্রের খবর, গতরাতেই তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের একপ্রস্থ আলোচনা হয়েছিল। এরপর আজ তাঁরা সটান মহুয়া মৈত্রের নির্বাচনী কার্যালয়ে পৌঁছে যান এবং ঘাসফুল শিবিরের পতাকা হাতে তুলে নেন।

    তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া

    কালীগঞ্জের ব্লক নেতৃত্বকে দলে স্বাগত জানিয়ে মহুয়া মৈত্র বলেন, 'মানুষ বুঝতে পারছেন যে উন্নয়নের স্বার্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করা প্রয়োজন। বিজেপিকে রুখতে তৃণমূলই একমাত্র বিকল্প। যারা ভুল বুঝে অন্য দলে গিয়েছিলেন, তাঁরা আজ ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছেন।' এই দলবদল কালীগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের সংগঠনকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করছে জেলা নেতৃত্ব।

    বিপাকে হুমায়ুন কবীর

    মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির নির্দল হিসেবে নিজের শক্তি প্রদর্শন করতে এই নতুন দল গড়েছেন। নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তিনি প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তাঁর সভার পরদিনই খোদ ব্লক সভাপতির দলত্যাগ তাঁর জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা যাতে বিভ্রান্ত না হন এবং সংখ্যালঘু ভোট যাতে ভাগ না হয়, সেই লক্ষ্যেই তৃণমূল এই 'অপারেশন' চালিয়েছে।

    নেতৃত্বের বক্তব্য

    তৃণমূলে যোগ দিয়েই আমির হোসেন ও ইউসুফ শেখরা জানিয়েছেন, 'হুমায়ুন কবিরের লড়াই এখন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে। বিজেপিকে ঠেকাতে আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করা ছাড়া উপায় নেই। কালীগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থেই আমরা মহুয়া মৈত্রের নেতৃত্বে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'

    বীরভূমে হুমায়ুনের সভা ফাঁকা

    বীরভূমের মাটিতে বিশাল জনসমর্থন প্রমাণের দাবি করলেও বাস্তবে চরম অস্বস্তিতে পড়লেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রধান হুমায়ুন কবীর। আজ, মঙ্গলবার বীরভূমের মাড়গ্রাম হাই মাদ্রাসা মাঠে তাঁর জনসভা করার কথা ছিল। বিশাল মঞ্চ বাঁধা থাকলেও দেখা মিলল না সাধারণ মানুষের। গোটা মাঠ কার্যত খাঁ খাঁ করায় শেষ পর্যন্ত সভাস্থলেই গেলেন না হুমায়ুন।

    মঞ্চের সামনে কেবল কিছু কচিকাঁচাকে খেলাধুলা করতে দেখা যায়। সভাস্থলে লোক না হওয়ায় অগত্যা রামপুরহাটের একটি বেসরকারি অনুষ্ঠান ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এই ভরাডুবির জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকেই দায়ী করেছেন হুমায়ুন।

    তাঁর অভিযোগ, ৪-৫ কিলোমিটার দূরে সমর্থকদের বাস আটকে দেওয়া হয়েছে এবং বীরভূমে ভয়ের রাজনীতির কারণে মানুষ সভায় আসতে পারেননি। এমনকি হেলিকপ্টার নামার অনুমতি নিয়েও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি।

    তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, বিতর্কিত মন্তব্য ও ভাইরাল ভিডিয়োর কারণেই কি সাধারণ মানুষ তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন? কপ্টারে চড়ে প্রচার চালালেও সভা ভরাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিধানসভা ভোটের আগে হুমায়ুন কবীরের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হলো। সভা করতে না পারলেও তিনি পুনরায় হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ৪ তারিখের পর তৃণমূল সরকার থাকবে না।

    ভোটের মুখে এই ভাঙন হুমায়ুন কবিরের দলের অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে কি না, সেটাই এখন দেখার। তবে কালীগঞ্জে তৃণমূল যে আজ একধাপ এগিয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।
  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)