মহিলা সংরক্ষণ বিল দ্রুত অনুমোদনের ডাক, দেশের ‘নারীশক্তি’কে খোলা চিঠি মোদির
প্রতিদিন | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
মহিলা সংরক্ষণ বিল দ্রুত অনুমোদনের ডাক দিয়ে চিঠি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। এক্স পোস্টে দেশের ‘নারী শক্তি’-র উদ্দেশে সেই চিঠি লিখেছেন তিনি। তাতে তিনি মন্তব্য করেছেন, দেশের কন্যাদের অনন্তকাল অপেক্ষা করিয়ে রাখা যাবে না! আমাদের পরিষদীয় ক্ষেত্রে মহিলদের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী হলে দেশের গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরও আরও মজবুত হবে।
পরিষদীয়, সংসদীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে মহিলাদের আসন সংরক্ষণের গুরুত্বের উল্লেখ করে বহু প্রতীক্ষিত সংস্কারের পথে আরও দ্রুত এগনোর আহ্বান জানিয়েছেন মোদি। পোস্টে তিনি লেখেন, দেশব্যাপী মহিলারা পরিষদীয় সংস্থায় মহিলাদের আসন সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করার উদ্যোগের প্রশংসা করছেন। নারীশক্তির উদ্দেশে আমার এই চিঠিতে দশকের পর দশক না হওয়া কাজ বাস্তবায়নে আমাদের দায়বদ্ধতার ফের উল্লেখ রয়েছে। ২০২৯-এর লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনগুলির আগে মহিলা সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছেন আমাদের মা-বোন-কন্যারা। আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ভারতের নারীশক্তিকে উত্সর্গ করা এই চিঠিতে সহ নাগরিকদের সঙ্গে আমার অনুভব ভাগ করে নিয়েছি। এ ব্যাপারে তিনি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাবাসাহেব অাম্বেদকরকে।
প্রসঙ্গত, সামনেই তিনদিনের সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে মোদি সরকার। সেখানে তারা মহিলা আসন সংরক্ষণ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের পদক্ষেপ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটেই প্রধানমন্ত্রীর আজকের এই চিঠি।
এদিকে মহিলা সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে মোদি সরকার লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার লক্ষ্যে ব্যবস্থা নিচ্ছে আসন্ন অধিবেশনে, এমনই সূত্রের খবর। বলা হচ্ছে, নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাসও এই উদ্যোগের অন্য লক্ষ্য। সূত্রটি জানাচ্ছে, এ ব্যাপারে একটি খসড়া বিল ইতিমধ্যে সাংসদদের বিলি করা হয়েছে। তিনদিনের সংসদের বিশেষ অধিবেশনে সাংবিধানিক সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে এগচ্ছে। সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধি সংশোধন করতে চায় সরকার। আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে মহিলা সংরক্ষণ মসৃণভাবে সম্পন্ন করার প্ল্যান আছে সরকারের। তাদের প্রস্তাব, ৮১৫টি আসন পাবে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত এলাকাগুলি। মোট আসন বেড়ে হবে সাড়ে ৮০০।
যদিও সামনেই যখন পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট, তখন ২৩ থেকে ২৯ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। বাকি বিরোধী দলগুলিও এ ব্যাপারে সরব হয়েছে। ২০১১-র সেনসাসের ভিত্তিতে ডিলিমিটেশনের উদ্্যোগে আপত্তি তুলে তারা বলছে, আপডেট হওয়া ২০২১-এর সেনসাস তথ্যের ভিত্তিতেই তা হওয়া উচিত।