মুর্শিদাবাদে এখনও ‘বিচারাধীন’ ১২ হাজার! ভোটার তালিকা বিভ্রাটে বাড়ছে ক্ষোভ
প্রতিদিন | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
মুর্শিদাবাদে এখনও ঝুলে ‘বিচারাধীন’ ১২ হাজার ৩৩৭ জন ভোটারের ভবিষ্যৎ। এক সপ্তাহ পর প্রথম দফার ভোট, অথচ এখনও জেলায় সব ‘বিচারাধীন’ ভোটারের নিষ্পত্তি হয়নি। মুর্শিদাবাদ জেলায় রাজ্যের মধ্যে সর্বাধিক ‘বিচারাধীন’ ভোটার ছিলেন ১১ লক্ষ ১ হাজার ১৪৫ জন। তার মধ্যে ১০ লক্ষ ৮৮ হাজার ৮০৮ জনের নিষ্পত্তি হয়ে ‘সাপ্লিমেন্টারি’ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ, জেলায় বাকি ১২ হাজার ৩৩৭ জন ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি। যাঁদের নিষ্পত্তি হয়েছে তাঁদের মধ্যে ৬ লক্ষ ৩৩ হাজার ৬৭১ জনের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে।
‘সাপ্লিমেন্টারি’ তালিকা থেকে ‘ডিলিট’ হয়েছে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম। এদিকে, এখনও ১২ হাজারের বেশি ‘বিচারাধীন’ ভোটারের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত হবে, নাকি ‘ডিলিট’ হবে সেবিষয়ে কোনও তথ্য নেই প্রশাসনের কাছে। ফলে উদ্বিগ্ন এই ‘বিচারাধীন’ ভোটাররা। তাঁদের নাম ঝুলে থাকায় তাঁরা ট্রাইব্যুনালেও আবেদন করতে পারছে না। আবার ভোটার তালিকায় নামও উঠছে না। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁদের আবেদন, যে ১২ হাজারের নাম ‘বিচারাধীন’ রয়েছে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হোক। জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলায় এখনও ‘বিচারাধীন’ নিষ্পত্তি না হওয়ার ভোটের দামামা তালিকার শীর্ষে রঘুনাথগঞ্জ।
রঘুনাথগঞ্জে ‘বিচারাধীন’ এখনও ৩,৫২৩ জন। ফারাক্কা ‘বিচারাধীন’ ভোটার ৩,১৮৩ জন, সুতিতে ৮২০ জন, ডোমকলে ৭১৬, বেলডাঙায় ৫৩৩ জন। এছাড়াও সামশেরগঞ্জে ৪৭৩ জন, ভগবানগোলায় এখনও ‘বিচারাধীন’ ৩২১ জন। বহরমপুরের বেনিদাসপুরের দু’টি বুথে ৯৭ জনের নাম এখনও ‘বিচারাধীন’ থেকে গিয়েছে। সেখানকার একটি বুথের ভোটার কাঞ্চনা খাতুন বলেন, “আমরা এখনও বিচারাধীন থেকে গেলাম। আমরা কি অপরাধ করলাম যে বিষয়টি নিষ্পত্তি হল না। ব্লক প্রশাসনকে গোটা বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনও উত্তর দিতে পারেননি।”
ইতিমধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। অথচ সেই তালিকায় এখনও ‘বিচারাধীন’ থেকে গেলেন বেলডাঙা বিধানসভার যদুপুরের ভোটার মতিউর রহমান। তিনি জানান, “২০০২ সালের এসআইআরের ভোটার তালিকায় নাম ছিল। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় নাম নির্ভুল ছিল। এসআইআরের খসড়া ভোটার তালিকায় নাম লেখা হয়, ‘মতিউররহমান’। নাম ও পদবির মাঝে গ্যাপ না থাকার অভিযোগে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল।” মতিউর বলেন, “পাসপোর্ট-সহ সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরেও আমাকে ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছিল। পরে বিচারকরা একের পর এক বুথের নিষ্পত্তি ঘটালেও এখনও আমার-সহ বুথের ৯ জনকে এখনও বিবেচনাধীন করে রেখেছে। ফলে আমরা ট্রাইব্যুনালেও যেতে পারছি না। আবার ‘বিচারাধীন’ থাকা অবস্থায় ভোট দিতে পারব কীনা তাও বুঝতে পারছি না। এভাবে আমাদের ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।” এদিকে, মুর্শিদাবাদ জেলায় ‘ডিলিট’ ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জন ভোটার ট্রাইব্যুনাল নিয়ে এখনও সংশয়ে রয়েছেন। ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার পরও ‘ডিলিট’ ভোটারদের শুনানি কোথায় হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বাড়ছে। এই ভোটারদের আদৌ ভবিষ্যৎ কি কেউ জানে না?
যদিও প্রশাসনের তরফেও কোনও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি। জেলার এক প্রশাসনিক কর্তা বলেন, “প্রক্রিয়া চলছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারপতিরা কাজ করছেন।” এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা জারি। বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, “বৈধ ভোটারদের ভোট দিতে না দেওয়ার চেষ্টা চলছে নির্বাচন কমিশনের। এর বিরুদ্ধে তৃণমূল লড়াই করছে।” বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরি বলেন, “প্রতিটা বৈধ ভোটারের ভোট দেওয়ার অধিকার সুনিশ্চিত করা হোক।” যদিও বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য ব্রতীন সিনহা বলেন, “বিচারকরা কাজ করছেন। সময় মতো সম্পন্ন হবে।”