পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির প্রভাব এবার নববর্ষের মিষ্টিতেও। পরিস্থিতি এমনই যে, নববর্ষের মিষ্টি এবার অন্যবারের মতো অতটা ‘মিষ্টি’ না-ও লাগতে পারে। শহরের নাম করা মিষ্টির দোকান থেকে জেলা মফস্বলেও চিত্রটা একই। পয়লা বৈশাখের আগে দাম অনেকটাই বেড়েছে অধিকাংশ মিষ্টির।
হালখাতা উপলক্ষে প্রতিবারই পয়লা বৈশাখের দিন দুই আগে থেকেই মিষ্টির আকার এবং দামে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। দাম বাড়ে। সাইজে কমে। কারণ, বিভিন্ন দোকানে হালখাতার জন্য বিপুল চাহিদা। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বেশ জটিল। কারণ, একদিকে জ্বালানি সংকট। বাড়তি দামে গ্যাস কেনায় মিষ্টির দাম আগেই বাড়িয়েছে দোকানগুলো। আর গত দু’দিনে তা আরও বড়েছে। যে কারণে বাড়ির জন্য মিষ্টি কিনতে গিয়েও দামের ছেঁকায় হাত পুড়ছে মধ্যবিত্তের। বহু ছোট, মাঝারি দোকান তো এবার অর্ডারই নেয়নি হালখাতার মিষ্টির।
দোকান মালিকরা জানিয়েছেন, এপ্রিলের শুরুতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় এলপিজি পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। মিষ্টিশিল্প সংগঠনের এক সদস্য জানান, মিষ্টির কিছু আইটেমের দাম ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত বেড়েছে। প্যাকেজিং খরচও প্রায় ৩০% বেড়েছে, কারণ পলিমারের দাম বেড়েছে। কিছু দোকান সামান্য দাম বাড়িয়েছে, আবার কেউ কেউ খরচ সামলাতে উৎপাদন কমাচ্ছে। অনেকেই গ্রাহকদের কথা ভেবে দাম বেশি না বাড়িয়ে আকারে ছোট করেছে মিষ্টির। ক্রেতারাও পরিবর্তন বুঝতে পারছেন। ১০ টাকার মিষ্টি ১৫ টাকা হয়েছে, ১২ টাকার মিষ্টিও তাই। ১৫ টাকার মিষ্টি ২০ টাকা। গড়ে সব মিষ্টিরই দাম বেড়েছে ৫ টাকা করে। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, এবার পরিস্থিতি আলাদা। গ্যাসের যা দাম। মিষ্টির দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই। মানুষ কেনাও কমিয়ে দিয়েছে।