এই সময়: ‘এপস্টিন ফাইলের সব তথ্য আস্তে আস্তে প্রকাশ্যে আসবে, বাঁচতে পারবেন না’— এই ভাষাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর আরও অভিযোগ, ভারত–ইউএস বাণিজ্যচুক্তির নামে আদতে মোদী দেশকে বিক্রি করে ‘দেশদ্রোহী’র কাজ করেছেন।
২০২৬–এর ভোটে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম প্রচারে এসে মঙ্গলবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ, মালদার চাঁচল এবং মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে পরপর তিনটি সভা করেন। এই তিনটি সভাতেই এপস্টিন ফাইল, ভারত–ইউএস বাণিজ্য চুক্তি, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন নিয়ে মোদীকে তীব্র আক্রমণ করেন রাহুল। তাঁর কথায়, ‘আপনারা এপস্টিন ফাইল জানেন? আমেরিকায় ৪৫ লক্ষ ফাইল বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। বিজেপি নেতা–মন্ত্রীদের নাম রয়েছে। নরেন্দ্র মোদীও এতেই ফেঁসে গিয়েছেন। আস্তে আস্তে সব সত্যি প্রকাশ্যে আসবে। বাঁচতে পারবেন না। এর (এপস্টিন ফাইল) চাবি ট্রাম্পের হাতে রয়েছে।’
রাহুলের কটাক্ষ, ‘আজকাল ওঁর চেহারা দেখেছেন? চোখে চোখে কথা বলতে পারেন না।...উনি দেশকে বলেন, ওঁর ৫৬ ইঞ্চি ছাতি। সংসদে এপস্টিন, আদানির কথা বলতেই মোদীজির হাওয়া বেরিয়ে গিয়েছিল। অমিত শাহকে বলেছিলেন, একে চুপ করাও। আমি থামিনি। টিভিতে দেখেছেন, নরেন্দ্র মোদী সংসদে থেকে বেরিয়ে চলে যান!’ প্রধানমন্ত্রীকে তোপ দেগে রাহুল ঘোষণা করেছেন কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে মোদী–শাহর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের সাফ কথা, নরেন্দ্র মোদীকে হারানো অসম্ভব।
উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী সভায় রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘আগামী ৩০ বছর দিল্লিতে বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে। কারও সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা নেই। নরেন্দ্র মোদী অজেয়। ভীষ্মের যেমন স্বেচ্ছামৃত্যু হয়েছিল, নরেন্দ্র মোদী তেমনই স্বেচ্ছায় রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন। তাঁকে হারানোর ক্ষমতা পৃথিবীতে কারও নেই। দেশে কোথাও কংগ্রেস নেই। দেশে কোনও বিরোধী দল নেই।’
মোদী সরকার আমেরিকার সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তার ফলে দেশের ছোট ব্যবসায়ী থেকে মাঝারি উদ্যোগপতিরা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলেও মনে করছেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়া, ইরান, ভেনেজ়ুয়েলা, সৌদ আরব— কোন দেশ থেকে ভারত তেল–গ্যাস কিনবে, তাও ট্রাম্প ঠিক করে দিচ্ছে। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে রাহুল বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদী নিজেকে দেশভক্ত বলেন। কিন্তু তিনি মার্কিন বাণিজ্যচুক্তিতে দেশকে বিক্রি করেছেন। উনি দেশভক্ত নন দেশদ্রোহী।’