• বাড়িতে এসে ভোট, খুশি অর্চনা-গীতা
    এই সময় | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, ঘাটাল: ছোট থেকে পোলিও-তে আক্রান্ত। বাঁ হাত ও পা প্যারালাইজড। অন্যের ভরসায় এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় যেতে হয়। আগে পরিবারের সদস্যদের কাঁধে ভর করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতেন। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জেরে বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। আর মাত্র আট দিন পরে প্রথম দফার ভোট, ২৩ এপ্রিল।

    মঙ্গলবার থেকেই পশ্চিম মেদিনীপুরে শুরু হয়েছে ভোট গ্রহণ। ভোটকর্মীরা বয়স্ক ও বিশেষ ভাবে সক্ষমদের ভোট গ্রহণের জন্য বাড়ি বাড়ি পৌঁছচ্ছেন। এ দিন ঘাটাল মহকুমার চন্দ্রকোণা, দাসপুর ও ঘাটাল এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কড়া নেড়েছেন তাঁরা।

    প্রশাসন সূত্রের খবর, ঘাটাল মহকুমার তিনটি বিধানসভা মিলিয়ে ১৬৪০ জন এই হোম-ভোটিংয়ের আবেদন করেছেন। মঙ্গলবার প্রথম দিন মহকুমায় ৮০০ জনের বাড়ি গিয়ে ভোট নেওয়া হয়েছে।

    এ দিন বাড়িতে বসে ভোট দিলেন চন্দ্রকোণার ভবানীপুর বুথের অর্চনা মণ্ডল। বনমালীপুর গ্রামের বাসিন্দা বছর চল্লিশের অর্চনা ছোট থেকে পোলিও আক্রান্ত। চার ভাই, দুই বোন। সংসার করা হয়নি অর্চনার। বাবার বাড়িতেই দাদাদের সঙ্গে থাকেন, তাঁরাই দেখভাল করেন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে দাদা অজিতের সঙ্গে গাড়িতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছিলেন অর্চনা। শারীরিক নানা জটিলতায় গত ২৩-এর পঞ্চায়েত ও ২৪-এর লোকসভা ভোট দিতে পারেননি।

    এ দিন সকাল সকাল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে ভোটকর্মীরা পৌঁছে যান অর্চনার বাড়িতে। ভোট দিতে পেরে মুখে চওড়া হাসি অর্চনার। স্পষ্ট ভাবে কথা বলতে পারেন না। দাদা অজিত বলেন, 'শারীরিক সমস্যার জন্য আগে এ ভাবে বাড়িতে ভোট দিতে পারেনি। তাই আমিই আবেদন করেছিলাম।'

    অর্চনার মতোই এ দিন বাড়িতে বসে ভোট দিলেন ঘাটাল পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের গড়প্রতাপনগর গ্রামের ৮৭ বছরের বৃদ্ধা গীতা দে। বয়সের কারণে শারীরিক ভাবে অসুস্থ তিনি। হোম ভোটিংয়ের জন্য পরিবার কমিশনে আবেদন করে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে তাঁরও বাড়ি পৌঁছয় ভোটকর্মীরা। নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বাড়িতে বসে ভোট দিতে পারায় খুশি গীতা। বলেন, 'বয়সের কারণে চলাফেরায় সমস্যা। বাড়িতে ভোট দিতে পেরে ভালোই লাগল।'

  • Link to this news (এই সময়)