কংগ্রেস নয়, TMC-কে সমর্থন ঝাড়খণ্ড মুক্তিমোর্চার, জঙ্গলমহলে 'খেলা হয়ে গেল'?
আজ তক | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
INDIA জোটের দলগুলির বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন সমীকরণ। যেমন পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূল কংগ্রেস একে অপরের রাজনৈতিক বিরোধী। একক ভাবে তিনদল ভোটে লড়ছে। ওদিকে ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেস ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা বন্ধু। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে আবার তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য প্রচার করবে হেমন্ত সোরেনের ঝাড়খণ্ড মুক্তিমোর্চা। কিন্তু কংগ্রেসের জন্য তারা প্রচার করবে না। অর্থাত্ কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে হয়ে গেল রাজনৈতিক শত্রু।
কংগ্রেস বাদ, বাংলায় TMC বন্ধু
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় কংগ্রেসকে ব্রাত্য রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে সওয়াল করতে চলেছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM)। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং তাঁর স্ত্রী তথা স্টার ক্যাম্পেইনার কল্পনা সোরেন এবার বাংলায় মমতার দলের হয়ে ভোট চাইবেন বলে জানা গিয়েছে।
মমতার আমন্ত্রণে সাড়া জেএমএম-এর
সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেমন্ত সোরেনের কাছে আবেদন করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে তাঁর দলের জন্য প্রচার করতে। সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছে ঝাড়খণ্ড মুক্তিমোর্চা। জেএমএম-এর সাধারণ সম্পাদক বিনোদ পাণ্ডে জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খোদ হেমন্ত ও কল্পনা সোরেনকে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে জেএমএম। বিনোদ পাণ্ডের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে রোখার একমাত্র ক্ষমতা রাখে তৃণমূল কংগ্রেস। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলকে দমন করার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই অবস্থায় তৃণমূলকে সবরকমভাবে সমর্থন করা আমাদের দায়িত্ব।
এখন প্রশ্ন হল, কংগ্রেস কী বলছে? পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যখন জেএমএম তৃণমূলকে সমর্থন করছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে হাত শিবির। তবে কংগ্রেস নেতা আলোক দুবে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে নেমে জানিয়েছেন, 'জেএমএম-এর সঙ্গে আমাদের জোট শুধুমাত্র ঝাড়খণ্ডের জন্য। অন্য রাজ্যে কোনও দল কার সঙ্গে রাজনীতি করবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে তারা স্বাধীন। ঝাড়খণ্ডে আমাদের সরকার মজবুত আছে।'
জোটের ফাটল কি স্পষ্ট?
বিহারের নির্বাচনে আসন না পাওয়ায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ এনেছিল জেএমএম। অসমেও তারা আলাদা লড়েছে। এবার বাংলায় কংগ্রেসের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের মঞ্চে সোরেন দম্পতির উপস্থিতি জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সংহতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। বিশেষ করে জঙ্গলমহল এবং আদিবাসী অধ্যুষিত আসনগুলিতে হেমন্ত সোরেনের প্রচার তৃণমূলকে বাড়তি মাইলেজ দিতে পারে বলে।