বাংলা নববর্ষের সকালে ভিডিয়োবার্তার মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও ‘অত্যাচার’-এর অভিযোগ তুলে ভোটের মাধ্যমে ‘বদলা নেওয়ার’ আহ্বান জানালেন তিনি।
ভিডিয়োবার্তার শুরুতেই নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলার একটা ঐতিহ্য, গরিমা আছে। এটা আমাদের বাংলার নববর্ষ। পাশাপাশি দেশের আরও অনেক রাজ্যে এই সময় নববর্ষ পালিত হয়।’ তিনি সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা দিয়ে বলেন, ‘বাংলা সম্প্রীতি, সংহতি ও সংস্কৃতির পীঠস্থান। আসুন, শান্তি-সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে আমরা নতুন ভোরের সূচনা করি।’
এরপরই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে ১০৫টি সামাজিক প্রকল্প চালু করেছে সরকার, যার সুবিধা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ মানুষকে ভাল রাখা। কিন্তু দিল্লির জমিদারেরা নানা ভাবে অত্যাচার করছে, ভোট কাটছে, অনধিকার প্রয়োগ করছে।’
কেন্দ্রীয় এজেন্সির ব্যবহার নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ‘সব এজেন্সি দিয়ে বাংলার উপর জুলুম অত্যাচার চলছে।’ এই প্রেক্ষিতেই ভোটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার ডাক দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘এই অত্যাচারের বদলা নিন। দয়া করে আপনারা ভোট দিন।’
একই সঙ্গে বিজেপিকে কটাক্ষ করে ‘ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্য আমার মন কাঁদছে। একটা পরিবারে চার জন ভোট দেবেন, এক জন পারবেন না— এটা মেনে নেওয়া যায় না।’ তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছেন এবং লক্ষাধিক নাম পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
শেষে তিনি বলেন, ‘দাঙ্গা নয়, অত্যাচার নয়, রক্ত নয়। গণতন্ত্রের পীঠস্থান নির্বাচন, এটা মানুষের ভোটের উৎসব।’ রাজ্যের ২৯৪টি আসনে তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।