‘মহিলা সংরক্ষণ বিল যুগান্তকারী পদক্ষেপ’, মোদিকে চিঠি দেশের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতির
প্রতিদিন | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে মোদি সরকার। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে সেই অধিবেশন। তার আগে বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ (মহিলা সংরক্ষণ বিল)-এর প্রশংসা করলেন দেশের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল। ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোতে নারীর প্রতিনিধিত্ব জোরদার করার পথে বিলটিকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করলেন তিনি।
২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল সংসদে। বিলে উল্লেখিত ছিল, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সেখানে আরও বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন কেন্দ্র আর জনগণনার অপেক্ষা করছে না। মোদি সরকার চাইছে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। সেই পুনর্বিন্যাসের ভিত্তিতেই মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষিত করা হবে। এই বিলের প্রশংসা করেছেন প্রতিভা পাটিল।
প্রতিভা ছিলেন দেশের ১২তম রাষ্ট্রপতি। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল অবধি দেশের সর্বোচ্চ পদে ছিলেন তিনি। মোদিকে লেখা চিঠিতে প্রতিভা লিখেছেন, “নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম-এর মতো ঐতিহাসিক উদ্যোগের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। যুগান্তকারী সাংবিধানিক সংশোধন আইন প্রণয়নকারী সংস্থাগুলিতে নারীদের বৃহত্তর প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে। এই সংশোধন কেবল একটি আইনি বিধান নয়; এটি লিঙ্গ সমতার পথে এককদম। অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। একটি শক্তিশালী এবং অধিক প্রগতিশীল ভারত গড়ার সম্মিলিত সংকল্প।
অন্যদিকে মহিলা সংরক্ষণ বিল দ্রুত অনুমোদনের ডাক দিয়ে নারী শক্তিকে খোলা চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। এক্স পোস্টে দেশের ‘নারী শক্তি’-র উদ্দেশে সেই চিঠিতে তিনি মন্তব্য করেছেন, দেশের কন্যাদের অনন্তকাল অপেক্ষা করিয়ে রাখা যাবে না! আমাদের পরিষদীয় ক্ষেত্রে মহিলদের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী হলে দেশের গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরও আরও মজবুত হবে।