• সব ঠিক থাকলেও কেন উপমুখ্যমন্ত্রী হলেন না নীতীশপুত্র নিশান্ত? বাবার নীতি না অন্য কিছু?
    প্রতিদিন | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিহারে ‘তকতাপলট’ হয়ে গেল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রথমবার পাটনার কুরসিতে বসলেন কোনও বিজেপি নেতা। যে সম্রাট চৌধুরী এতদিন নীতীশ কুমারের ডেপুটি ছিলেন, তিনিই এবার বিহারের বস।

    এতদিন শোনা যাচ্ছিল, সম্রাট চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী হলেও দুই উপমুখ্যমন্ত্রী পাবে জেডিইউ। তাঁদের মধ্যে একজন হতে চলেছেন নীতীশ কুমারেরই ছেলে নিশান্ত কুমার। কিন্তু তেমনটা হল না। জেডিইউ থেকেই দু’জন উপমুখ্যমন্ত্রী হলেন। তাতে নিশান্তের নাম নেই। একজন উপমুখ্যমন্ত্রী বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদব, অপরজন বিজয় চৌধুরী। দু’জনেই সিনিয়র নেতা।

    কিন্তু কেন উপমুখ্যমন্ত্রী হলেন না নিশান্ত? শোনা যাচ্ছে, গোটা দল চাইছিল নিশান্ত উপমুখ্যমন্ত্রী হন। তাঁকে বারবার অনুরোধও করা হয়। কিন্তু তিনি কোনওভাবেই রাজি হননি। এমনকী নীতীশ কুমার নিজেও চাইছিলেন তাঁর ছেলে উপমুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে বসুন। মঙ্গলবার পর্যন্তও তিনি নিশান্তকে বোঝান যাতে তিনি উপমুখ্যমন্ত্রী হতে রাজি হন। কিন্তু নিশান্ত রাজি হননি। বাবার অনুরোধও রাখেননি তিনি।

    কিন্তু কেন রাজি হলেন না নিশান্ত? তাহলে কি বাবা এতদিন ধরে যে পরিবারতন্ত্র বিরোধী অবস্থান ধরে রেখেছিলেন, সেটা ধরে রাখার জন্যই ওই সিদ্ধান্ত? নাকি অন্য কোনও কারণ? নিশান্তের যুক্তি হল, এতদিন নীতীশ কুমার যে পরিবারতন্ত্রের বিরোধিতা করে এসেছেন, তিনি এখনই সাংবিধানিক পদে বসলে সেই অবস্থানের ঠিক উলটো পথে হাঁটা হবে। তাছাড়া নিশান্ত জানেন, এখনই তিনি এত বড় পদে বসে গেলে দলের সিনিয়র নেতাদের কারও কারও মনে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। নিশান্তের আরও যুক্তি, রাজনীতিতে তিনি সদ্য পা রেখেছেন। সেদিক থেকে দেখতে গেলে তিনি শিক্ষানবিশ। আপাতত শুধুই শিখতে চান। অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান। বিহারকে বুঝতে চান। শোনা যাচ্ছে, কোনও সংবিধানিক পদে বসার আগে বিহারের যাত্রা করবেন নিশান্ত। বাবার ছায়ার বাইরে বেরনোই উদ্দেশ্য তাঁর।
  • Link to this news (প্রতিদিন)