হেরিটেজ হবে অনাদরে পড়ে থাকা বিভূতিভূষণের বাড়ি, তৈরি হবে মিউজিয়াম, প্রতিশ্রুতি তৃণমূলের
প্রতিদিন | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
বনগাঁ মহকুমার গোপালনগরের বারাকপুরে বসতবাড়ি অমর কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এবার ভোটে (West Bengal Assembly Election) জিতলে বিভূতিভূষণের বসতবাড়িকে হেরিটেজের মর্যাদা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করল তৃণমূল। পাশাপাশি বাড়িটিতে একটি মিউজিয়াম তৈরি করা হবে বলেও জানিয়েছে তৃণমূল। বিভূতিভূষণের জন্ম বারাকপুরে না হলেও তাঁর শৈশব, পড়াশোনা, কর্মজীবন এখানেই কেটেছে। এখানকার ইছামতী নদীতেই তিনি নিয়মিত স্নান করতেন। নদীর ধারে বসেই সমস্ত কালজয়ী সাহিত্য রচনা করেছিলেন। কিন্তু সেই বাড়ি বহুদিন ধরে অনাদরে পড়ে রয়েছে।
মঙ্গলবার তৃণমূলের বনগাঁ জেলা কার্যালয়ে তৃণমূলের ইস্তাহার প্রকাশ করেন বনগাঁ উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস। তাতে প্রার্থী প্রতিশ্রুতি দেন, আগামিদিনে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিভূতিভূষণের বাড়িটিকে হেরিটেজের মর্যাদা দেওয়া হবে এবং এখানে একটি মিউজিয়াম তৈরি করা হবে। পাশাপাশি গোপালনগরকে পুরসভা গঠন করা, ইছামতী নদী সংস্কারের মতো গুচ্ছ প্রস্তাবও রাখা হয়েছে ইস্তাহারে। বনগাঁ স্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম তৈরি করা-সহ নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তবে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িটি হেরিটেজ ঘোষণা ও মিউজিয়াম তৈরির প্রতিশ্রুতি বনগাঁর সাহিত্যিক থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক কর্মী সকলের নজর কেড়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার সংস্কৃতিমনস্ক মানুষজন দাবি করে আসছিলেন যে, বাড়িটি সরকার অধিগ্রহণ করুক এবং একটি সংগ্রহশালা তৈরি করা হোক। এখন দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষ বাড়িটি দেখতে আসেন। তবে সেখানে বিভূতিভূষণের বিশেষ কোনও পাণ্ডুলিপি বা ব্যক্তিগত জীবনের কোনও কিছুই রাখা নেই। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, বাড়িটি মিউজিয়াম হিসাবে তৈরি হলে বিভূতিভূষণের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে সেখানে অনেক কিছুই স্থান পাবে। পর্যটকরা তাঁর সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
বাসিন্দাদের আরও বক্তব্য, ভোটের (West Bengal Assembly Election) ইস্তাহারে সাধারণত পানীয় জল, রাস্তা, বিদ্যুৎ, নদী সংস্কার এসব বিষয় গুরুত্ব পায়। কিন্তু বিভূতিভূষণের বাড়িতে তাঁদের ইস্তাহারে রেখে তাক লাগিয়ে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের গর্ব। পরিবারের আপত্তিতে এতদিন আমরা বাড়িটিতে মিউজিয়াম তৈরি করতে পারিনি।”