• মোদীর ‘৫০% তত্ত্ব’ ভাঁওতা! ডিলিমিটেশনে দক্ষিণী রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব কমে ২০% হবে, বললেন প্রাক্তন মন্ত্রী
    এই সময় | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • আসন পুনর্বিন্যাস হলে প্রতিটি রাজ্যের লোকসভা আসন ৫০ শতাংশ বাড়বে বলে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদীর সরকার যে দাবি করছে, তা আদতে ভাঁওতা। এতে উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়লেও, কমবে দক্ষিণী রাজ্যের প্রতিনিধিত্বের হার। এমনটাই দাবি করলেন কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম।

    ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে ১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি বিল আনতে চলেছে মোদী সরকার। তারই অঙ্গ হিসাবে আসন পুনর্বিন্যাস করে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দেশে লোকসভার মোট আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে ৮৫০ হবে। এর মধ্যে রাজ্যগুলি থেকে সর্বাধিক ৮১৫টি আসন থাকবে। আর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি থেকে থাকবে ৩৫টি আসন।

    মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিরোধিতা করে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই ভাবে আসন পুনর্বিন্যাস হলে যেখানে বিজেপির শক্তি বেশি, সেই হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলির আসন সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে যাবে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির তুলনায়। মোদী সরকারের একটি সূত্র দাবি করেছে, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই, কারণ সব রাজ্যেই লোকসভার আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়বে। এই দাবির সঙ্গে সহমত নন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিদাম্বরম। তাঁর দাবি, বর্তমানে লোকসভায় দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্বের হার ২৪.৩ শতাংশ। আসন পুনর্বিন্যাস হলে তা কমে ২০ শতাংশে পৌঁছে যাবে।

    বুধবার এক্স হ্যান্ডলে চিদাম্বরম লেখেন, ‘লোকসভার আসন সংখ্যা ৫০ শতংশ বাড়লে হিসাব মতো তামিলনাড়ুর আসন সংখ্যা ৩৯ থেকে ৫৮ হওয়ার কথা। এটা একধরনের বিভ্রম। পুনর্বিন্যাস হলে আদতে তা ৪৬-এই আটকে যাবে।’ প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর আরও দাবি, আসন পুনর্বিন্যাস হলে উত্তরপ্রদেশের আসন সংখ্যা হিসাব মতো ৮০ থেকে বেড়ে ১২০ হওয়ার কথা। কিন্তু আসলে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৪০ হয়ে যাবে। চিদাম্বরমের মত, ‘আসন পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত আসলে যুক্তরাষ্ট্রীয় ভারসাম্য নষ্ট করার একটা কূট প্রচেষ্টা।’ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনও প্রধানমন্ত্রীকে ‘চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি’ দিয়ে বলেছেন, তামিলনাড়ুকে বঞ্চিত করা হলে রাজ্যের সমস্ত মানুষ রাস্তায় নামবে।

    কিন্তু বিষয় বিরোধীদের সামনে মুশকিল হল, মোদী সরকার যে সংবিধান সংশোধনী বিল আনতে চলেছে বৃহস্পতিবার, তার মধ্যেই লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি, ২০২৯ থেকে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরের বিষয়টি রেখেছে। তাতে বাধা দিতে গেলে বিজেপি বিরোধীদের বিরুদ্ধে মহিলা সংরক্ষণ আটকানোর অভিযোগ তুলবে। সরকারি সূত্রের খবর, লোকসভায় ১৬ ও ১৭ এপ্রিল বিল নিয়ে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিতর্কে অংশ নেবেন। রাজ্যসভায় ১৮ এপ্রিল আলোচনা ও ভোটাভুটি হবে।

  • Link to this news (এই সময়)