রাজ্যে পালাবদলের আগে থেকেই শ্যামপুর তৃণমূল কংগ্রেসের ‘দুর্গ’ বলেই পরিচিত। ২০০১ সাল থেকেই এই কেন্দ্রে জিতে এসেছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক কালীপদ মণ্ডল। সেই জায়গায় এ বার লড়তে পাঠানো হয়েছে দলের আরেক একনিষ্ঠ সৈনিক নদেবাসী জানাকে। তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে বিজেপির বাজি অভিনেতা রাজনীতিক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বামফ্রন্টের প্রার্থীর ফরওয়ার্ড ব্লকের অসিত সাউ। লড়াইটা কি একমুখী? নাকি শ্যামপুরে পরিবর্তনের হাওয়া?
হাওড়া জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম এই শ্যামপুর। এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ। সেই সঙ্গে এই বিধানসভা এলাকায় দেড়শো ইটভাটা রয়েছে। যা এই কেন্দ্রের হাজার হাজার মানুষের কর্মস্থল। এর পাশাপাশি বড় অংশের মানুষ মৎস্যজীবী। দীর্ঘ ২৫ বছর ২০০১ সাল থেকে এই কেন্দ্রটি তৃণমূলের দখলে রয়েছে। যতদিন গিয়েছে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান বেড়েছে। এ বারের লড়াইটাও সহজ ভাবে নিচ্ছে শাসকদল।
শুরু থেকেই পার্টিজ়ান মানুষ নদেবাসী জানা। নীরবে দল করে গিয়েছেন তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে। আগাগোড়া বাম জমানাতেও ঘাসফুলের পতাকাধারী ছিলেন নদেবাসী। এ বার তাঁর ঘাড়েই আসনটি জিতে আসার ভার দিয়েছে দল।
নদেবাসীর দাবি, ‘এখানে আইটিআই কলেজ হয়েছে। উৎকর্ষ বাংলা ট্রেনিং সেন্টার হয়েছে একাধিক জায়গায়। অনেকগুলি পাকা ব্রিজ হয়েছে। গাদিয়াড়ার পর্যটন কেন্দ্রের মানোন্নয়নের চেষ্টা চলছে। বাড়ি বাড়ি জলের ব্যবস্থা হয়েছে।’ এই ইস্যুগুলিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, ‘শ্যামপুরের মানুষের জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে ইটভাটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই ইটভাটার কী ভাবে আধুনিকীকরণ করা যায়, সেটা তাদের সঙ্গে কথা বলে রাজ্য সরকারকে প্রস্তাব দেব। শ্যামপুরে একাধিক বস্ত্রবয়ন ক্ষেত্রের কারখানা হয়েছে এমএসএমই সেক্টরে। এই ধরনের আরও কারখানা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে আইটিআই থেকে ছেলেরা পাস করে বা উৎকর্ষ বাংলা থেকে পাস করে কাজের সুযোগ পায়। বোয়ালিয়া সেতু নির্মাণের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
দল তাঁকে টিকিট দেবে কিনা একটা সময়ে তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছিল। দিলীপের সেকেন্ডের ইনিংস শুরু জন্য খড়্গপুর সদরে বিধানসভার টিকিট দেওয়া হয়েছে। খড়্গপুর থেকে হিরণকে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে শ্যামপুর কেন্দ্রে। এমনিতেই তিনি ‘বহিরাগত’। তবে শ্যামপুরে রয়েছে তাঁর মামারবাড়ি।
হিরণের কথায়, ‘কয়েক দশক আগে শ্যামপুর যে জায়গায় ছিল ছিল আজও সেই জায়গায় আছে। কোনও উন্নয়ন হয়নি। নেই ভালো চিকিৎসা পরিষেবা, একাধিক জায়গায় নেই পাকা সেতু। উন্নয়নের ছিটে-ফোঁটা এখানে নেই।’ অন্য দিকে বামফ্রন্টের প্রার্থী ফরওয়ার্ড ব্লকের অসিত সাউয়ের বক্তব্য, ‘মানুষ এ বার পরিবর্তন চাইছে।’ তৃণমূল-বিজেপিকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে বলে আশাবাদী তিনি।