মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার বিল বৃহস্পতিবারই সংসদে পেশ করার কথা নরেন্দ্র মোদী সরকারের। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ একজোট হয়ে এই বিলের বিরোধিতা করবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার কি এই পাশ করাতে পারবে সংসদে? আপাতত এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে জাতীয় রাজনীতিতে।
২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে ১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে মোদী সরকার মোট তিনটি বিল আনবে। এক, সংবিধানের ১৩১-তম সংশোধনী বিল। দুই, আসন পুনর্বিন্যাস বিল। তিন, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। মঙ্গলবার দুপুরেই এই তিনটি বিল সাংসদদের কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে লোকসভার মোট সদস্যের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন তো লাগবেই। পাশাপাশি উপস্থিত সাংসদদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনও প্রয়োজন। অর্থাৎ লোকসভায় ৫৪৩ জনই হাজির থাকলে, ৩৬২টি ভোট দরকার হবে বিলের পক্ষে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬৮-তে সে কথা বলা আছে।
কিন্তু মোদী সরকারের হাতে এই মুহূর্তে এই সংখ্যা নেই। এখন লোকসভায় এনডিএ-র মোট সাংসদ সংখ্যা ২৯৩। আর ‘ইন্ডিয়া’র সাংসদ সংখ্যা ২৩০-২৪০। অর্থাৎ, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার শর্ত মানার জন্য আরও ৭১ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন মোদী সরকারের। রাজ্যসভাতেও উপযুক্ত সংখ্যা নেই তাদের। উচ্চকক্ষে বিল পাশ করাতে সরকার পক্ষের প্রয়োজন ১৬৪টি ভোট। কিন্তু এনডিএ-র সাংসদ সংখ্যা ১৪১। অর্থাৎ, আরও ২৩ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন সরকারের। প্রসঙ্গত, রাজ্যসভায় বিরোধী সাংসদ সংখ্যা ৫৮-৬২।
রাজনৈতিক মহলের মত, বিরোধী সাংসদেরা সাংসদদের বড় অংশ ভোটাভুটির দিন সংসদে উপস্থিত না থাকলেই একমাত্র এই বিল পাশ করা সম্ভব মোদী সরকারের পক্ষে। কিন্তু তার সম্ভাবনা কম। কারণ, প্রায় সব দল সাংসদদের লোকসভা-রাজ্যসভায় হাজির থাকার নির্দেশ বা ‘হুইপ’ জারি করে দিয়েছে ইতিমধ্যে। কিন্তু বিরোধীদের সামনে মুশকিল হল, মোদী সরকার যে সংবিধান সংশোধনী বিল আনতে চলেছে বৃহস্পতিবার, তার মধ্যেই লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি, ২০২৯ থেকে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরের বিষয়টি রেখেছে। তাতে বাধা দিতে গেলে বিজেপি বিরোধীদের বিরুদ্ধে মহিলা সংরক্ষণ আটকানোর অভিযোগ তুলবে। চলতি এপ্রিলে পাঁচ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে যে বিধানসভা নির্বাচন চলছে, সেখানেও ভোটের প্রচারে এই অভিযোগ তুলে সরব হবে বিজেপি।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই সংসদে মল্লিকার্জুন খাড়গের কাছে এই বিলের জন্য সমর্থন চেয়েছিলেন মোদী। খাড়গে জানিয়েছিলেন, বিরোধী শিবির সার্বিক ভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। বুধবার তারা সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানিয়েছে, নৈতিক ভাবে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু মোদী সরকার যে ভাবে এবং যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই বিল পাশ করাতে চাইছে, আপত্তি তা নিয়ে। সেই কারণে এই বিলের বিরোধিতা করবে ‘ইন্ডিয়া’।