কেন্দ্রের ডিলিমিটেশন বিলে বাংলা ও দেশকে ভাগ করার চক্রান্ত, বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার
আজ তক | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০টি করার প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই বিল পাশ হলে মহিলাদের সংরক্ষণ আইন এবং নতুন করে সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) প্রক্রিয়া চালু করার পথ খুলে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কেন্দ্রের এই প্রস্তাবের মধ্যে চক্রান্ত দেখতে পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আজ বুধবার উত্তর দিনাজপুরে জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকার যে ডিলিমিটেশন বিল এনেছে তার মাধ্যমে বাংলা ও দেশকে ভাগ করার চক্রান্ত করা হচ্ছে। এই বিলে মহিলাদের সংরক্ষণের কথা বলা হলেও, বাংলা আগে থেকেই তাস কার্যকর করেছে বলেও দাবি করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
মমতার কথায়, 'এবার ডিলিমিটেশন বিল এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার। মহিলাদের সংরক্ষণের বিল আলাদা। ডিলিমিটেশন আলাদা। মেয়েদের অসম্মান করা হচ্ছে। দুটো বিল একসঙ্গে এনে দেশটাকে, বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্ত হচ্ছে। আমরা একমাত্র রাজ্য যেখানে ৩৩ শতাংশ নয়, ৩৭ শতাংশ সংরক্ষণ করেছি মহিলাদের জন্য। আমাদের জেতা প্রার্থী আছে রাজ্যসভা ও লোকসভায়। মহিলা বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন একসঙ্গে জুড়ে যা ইচ্ছা করছে। তবে আগামী দিন ভারতে থাকবে না বিজেপি। যদি আমাকে টার্গেট করা হয়ট, তাহলে আমরাও আপনাদের টার্গেট করব। বাংলায় ক্ষমতা দখলের পর দেখাব, আমাদের ক্ষমতা কতটা।'
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই আসন সংখ্যা ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের রূপরেখা নিয়ে একটি খসড়া বিল ইতিমধ্যেই সাংসদদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। ৩ দিনের একটি বিশেষ সংসদ অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই বিশেষ অধিবেশনে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার পাশাপাশি ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী আসন পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। নতুন করে আসন বাড়ানো হলে সংরক্ষণ বাস্তবায়ন সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার।
এদিকে এই বিল নিয়ে আপত্তি জানাতে প্রস্তুত এনডিএ বিরোধীরা। বিশেষ করে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতা করছে তারা। AAP, RJD এবং DMK-সহ একাধিক দল দাবি তুলতে পারে, ২০২১ সালের হালনাগাদ জনগণনার ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়া হওয়া উচিত। মহিলাদের সংরক্ষণের মধ্যে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য আলাদা কোটা নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইতে পারে তারা। তারই মধ্যে এই বিল নিয়ে নিজের আপত্তির কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।