মহিলা সংরক্ষণ বিলে নীতিগত সমর্থন থাকলেও সংসদে কেন্দ্রের বিরোধিতা! বৈঠকে সিদ্ধান্ত ইন্ডিয়া জোটের
প্রতিদিন | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
সম্মিলিতভাবে মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল এবং সীমানা পুনর্বিন্যাস বিলের বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নিল ইন্ডিয়া জোট। ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদে বিশেষ অধিবেশন হতে চলেছে, যেখানে লোকসভার পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিলটি পাস করাতে উদ্যোগী কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। বিরোধী শিবিরের সিদ্ধান্ত, মহিলা সংরক্ষণ বিলে নীতিগত সমর্থন থাকলেও যেভাবে মোদি সরকার এটা নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে, সেটার বিরোধিতা করা হবে। আর জনগণনার আগে আসন পুনর্বিন্যাসের সম্পূর্ণ বিরোধী ইন্ডিয়া জোট।
ওই বিল দুটি পাশ করাতে সংবিধান সংশোধন করাতে হবে। ফলে বিরোধীদের সমর্থনও দরকার কেন্দ্রের। মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল নিয়ে অবস্থান ঠিক করতে বুধবার দিল্লিতে বৈঠকে বসেছিল ইন্ডিয়া জোট। তাতে বিরোধী শিবিরের সব বড় দলই উপস্থিত ছিল। কংগ্রেসের পাশাপাশি ডিএমকের টি আর বালু, আরজেডির তেজস্বী যাদব, তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষ, শিব সেনার সঞ্জয় রাউত এবং এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে, এছাড়াও সমাজবাদী পার্টি ও বাম দলগুলির প্রতিনিধি বৈঠকে ছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে একদিন আগেই বাংলায় এসে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে গিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তারপরও তৃণমূল আজকের বৈঠকে বিরোধী ঐক্যের স্বার্থে প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। মোট কথা দীর্ঘদিন বাদে এই মহিলা সংরক্ষণ আইনকে সামনে রেখেই একজোট হচ্ছে ইন্ডিয়া জোট।
২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল সংসদে। বিলে উল্লেখিত ছিল, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সেখানে আরও বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন কেন্দ্র আর জনগণনার অপেক্ষা করছে না। মোদি সরকার চাইছে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। সেই পুনর্বিন্যাসের ভিত্তিতেই মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষিত করা হবে। সেটারই বিরোধিতায় একজোট ইন্ডিয়া শিবির।
এদিনের বৈঠক শেষে মল্লিকার্জুন খাড়গে জানিয়েছেন, “আমরা নীতিগত ভাবে মহিলা সংরক্ষণ বিলের পক্ষে। আগেও আমরা এটাকে সমর্থন করেছি। কিন্তু যেভাবে মোদি সরকার এটাকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য ব্যবহার করতে চাইছে, সরকারের সেই মনোভাবের আমরা বিরোধী।” কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “এভাবে আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে আমরা পুরোপুরি সেটার বিরোধিতা করব।” যার অর্থ বিশেষ অধিবেশন ডাকলেও মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করানো একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।