নেপালের ‘জেনারেশন জেড’ অর্থাৎ ‘জেন জি’ আন্দোলনের ধাচে ‘পরিবর্তন’-এর ডাক দিয়ে পাহাড়ে নির্বাচনী প্রচার! অজয় এডওয়ার্ড নেতৃত্বাধীন ভারতীয় গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট এবং অনীত থাপা নেতৃত্বাধীন ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা এবার এই ধাঁচেই জোর প্রচার চালাচ্ছে। নেপালের মতোই পাহাড়ে যুবক-যুবতী, তরুণদের মাথায় ফেট্টি। দলের নাম লেখা বিশেষ টি শার্ট। র্যাপ সঙ্গীতের ছন্দে উৎসবের মেজাজে চলছে মিছিল। অভিনব ওই প্রচার সামাল দিতে পাহাড়ে জেরবার দশা পদ্ম শিবিরের! এই অবস্থায় সহায় হয়েছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং। ভোট (West Bengal Assembly Election) প্রচারে বিজেপির আসনেও মাঠ ভরাতে এখন ভরসা তিনি।
নেপালের জেন জি’র আদলে ভারতীয় গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট এবং ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার মিছিল ও নির্বাচনী জনসভাতেও নতুন প্রজন্মের ভিড়। কার্শিয়াং থেকে কালিম্পং একই ছবি। কার্শিয়াং আসনে অজয় এডওয়ার্ডের দলের প্রার্থী হয়েছেন আইনজীবী বন্দনা রাই। অজয় দলীয় প্রার্থীকে নিয়ে নজরকাড়া মিছিল, রোড-শো করে কর্মী সমর্থকদের মধ্যে স্লোগান বেধে দিয়েছেন ‘লেটস গো কার্শিয়াং, লেটস ভোট ফর পরিবর্তন’। অজয়ের তৈরি ওই স্লোগান যেন তাড়া করছে বন্ধু বিমল গুরুংকে! ‘বন্দেমাতরম’ সঙ্গীতের ফাঁকে এই স্লোগানটি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল। বিশেষত, নতুন প্রজন্ম ‘লেটস গো কার্শিয়াং, লেটস ভোট ফর পরিবর্তন’ স্লোগানে আত্মহারা হয়ে পড়ছে। তাহলে কি নতুন প্রজন্ম এবার ব্যাপকভাবে সাড়া দিয়েছে?
দার্জিলিং বিধানসভা আসনে অজয় এডওয়ার্ড নিজে প্রার্থী হয়েছেন। সেখানেও পাহাড়ে জেন জি-দের ভিড়। মুখেমুখে ফিরছে স্লোগান ‘লেটস গো দার্জিলিং, লেটস ভোট ফর পরিবর্তন’। কিসের পরিবর্তন? অজয় এডওয়ার্ড জানান, পরিবর্তন পাহাড়ের দাদাগিরি রাজনৈতিক সংস্কৃতির। পরিবর্তন পাহাড়ের পর্যটন শিল্প বিকাশ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং পরিকাঠামোর। তিনি বলেন, “বিমল গুরুং বলেছেন দার্জিলিং আসনে তাদের জোট প্রার্থী না জিতলে তিনি রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেবেন। সেজন্য যেন তৈরি থাকেন।” কিন্তু ওই সমস্ত রাজনৈতিক তরজায় পাহাড়বাসীর খুব একটা আগ্রহ নেই! বরং আগ্রহ বেশি ভারতীয় গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের অভিনব প্রচার কৌশল ঘিরেই।
কার্যত, দার্জিলিং পাহাড়ে নির্বাচনী প্রচারের ছবি এবার পুরোপুরি ভিন্ন। সাবেকি প্রচলিত মিছিল, মিটিং ছেড়ে প্রচারের ময়দানে ঢুকে পড়েছে র্যাপ সঙ্গীত। ছোট গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে ছন্দ, বিট ও কথার লড়াই। যেমনটা হয়েছিল নেপালে জেন জি আন্দোলনে সেখানকার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিশিষ্ট র্যাপার বলেন শাহের হাত ধরে। তরুণ ভোটারদের টানতে এই নতুন কৌশল প্রথম ভারতীয় গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট নিলেও এখন ওই পথে হাটছে অনীত থাপা নেতৃত্বাধীন ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চাও। দুই দলই ‘জেনারেশন জেড’-এর কাছে পৌঁছাতে র্যাপ গানকে হাতিয়ার করেছে। প্রার্থীকে নিয়েও পাহাড়ে ছড়িয়েছে র্যাপ গান।
কালিম্পংয়ের বিধায়ক রুদেন সাডা লেপচা কিংবা কার্শিয়াংয়ের প্রার্থী বন্দনা রাই, দু’জনেই নিজেদের প্রচারে এই নতুন ধারাকে কাজে লাগিয়েছেন। দার্জিলিংয়ের লেবং এলাকাতেও প্রার্থীকে সামনে রেখে তৈরি হয়েছে আলাদা র্যাপ গান। এআই-এর সাহায্যে দ্রুত গান তৈরি করে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। বড় স্পিকার লাগানো গাড়ি পাহাড়ি পথে ঘুরছে। সেখানে উচ্চস্বরে বাজছে র্যাপ গান।তাল মিলিয়ে হাঁটছেন দলের কর্মীরা।