‘শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা করেছে’, তৃণমূলে নাম লেখালেন রানিগঞ্জের বিজেপি প্রার্থীর প্রাক্তন স্ত্রী
প্রতিদিন | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
তৃণমূলে যোগ দিলেন রানিগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী পার্থ ঘোষের প্রাক্তন স্ত্রী পাপড়ি সিনহা। তারপরই বিস্ফোরক অভিযোগ তাঁর। মঞ্চ থেকেই পার্থর বিরুদ্ধে তুললেন শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগ। শুধু তাই নয়, আরও একগুচ্ছ অভিযোগ তোলেন তিনি। পালটা দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থীর বর্তমান স্ত্রী রেণুকা ঘোষ। বললেন ভোটের সময় তাঁর স্বামীকে কালিকালিপ্ত করতে এই অভিযোগ করছেন পার্থর প্রাক্তন।
রানিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী কালোবরণ মণ্ডল। এদিন তাঁর প্রচার সভায় তৃণমূলে যোগ দেন বিজেপি প্রার্থী পার্থ ঘোষের প্রাক্তন স্ত্রী পাপড়ি সিনহা। মঞ্চ থেকে তিনি দাবি করেন, অতীতে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। পাপড়ি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “আমার মতো যেন আরও কোনও মেয়ে যেন এমন কষ্টের শিকার না হন। তাই আমি মুখ্যমন্ত্রী মমত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরলাম।” তাঁর আরও মত, প্রাক্তন স্বামীর চারিত্রিক পরিচয় জেনে তবেই যেন মানুষ ভোট দেন।
গোটা ঘটনাটিকে তৃণমূলের চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন বিজেপি প্রার্থী পার্থ। সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক তথ্য প্রমাণ সামনে এন তিনি দাবি করেন, তাঁদের মতের মিল না থাকায় তাঁরা বিবাহবিচ্ছেদের পথে হাঁটেন। উভয়পক্ষের সম্মতিতেই বিচ্ছেদ হয়। পার্থ বলেন, ” ২০০৭ সালে পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। আবেদনের নথিতে আমার প্রাক্তন স্ত্রী জানিয়েছিলেন মানসিকতার অমিল রয়েছে। আর কোনও অভিযোগ নেই। ১৯ বছর আগের ঘটনা হঠাৎ আজ ভোটের মুখে মনে পড়ল কেন? এটা তৃণমূলের চক্রান্ত।”
ভোটের ময়দানে পারিবারিক বিষয় এসে যাওয়াই সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন পার্থর বর্তমান স্ত্রী রেণুকা ঘোষ। তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান। পার্থর সঙ্গে তাঁর বিয়ের আগে সমস্ত কাগজ দেখে ছিলেন। সেখানে লেখা ছিল মতের অমিলের কারণে তাঁরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রেণুকা বলেন,”কোনও মানুষ খারাপ হলে, তিনি সবার সঙ্গেই খারাপ আচরণ করবেন। কিন্তু আমি কোনও নির্যাতনের শিকার হইনি। সন্তান ও স্বামীর সঙ্গে সুখে জীবনযাপন করছি। আমার মনে হয় ভোটের মুখে পার্থকে কালিমালিপ্ত করতে এই রকম মন্তব্য করছেন প্রাক্তন স্ত্রী।”