• দশকের দ্বিতীয় ‘শীতলতম’ ১ বৈশাখ হাঁসফাঁস, সম্ভাবনা বৃষ্টির
    এই সময় | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: গত দশ বছরে পয়লা বৈশাখের দিন কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা একবারও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস–এর ঘরে পৌঁছয়নি। ২০২৬–এ যে এর ব্যতিক্রম হতে পারে, এমন আশঙ্কার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি হাওয়া অফিস। বুধবার দিনের শেষে দেখা গেল, গত এক দশকে পয়লা বৈশাখ দুপুরে কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নিরিখে ২০২৬ ছিল দ্বিতীয় শীতলতম। এ দিন শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.১ ডিগ্রি।

    ২০১৭ থেকে পয়লা বৈশাখের দিন এর চেয়ে কম তাপমাত্রা একবার মাত্র দেখেছে শহর। ২০২৫–এর পয়লা বৈশাখ (৩৪.২ ডিগ্রি) ছিল দশকের শীতলতম বাংলা নববর্ষ। তবে খাতায়কলমে বুধবার দশকের ‘দ্বিতীয় শীতল’ বাংলা নববর্ষ হলেও শহরবাসী অবশ্য তার জন্য বিন্দুমাত্র স্বস্তি পাননি।

    চড়া আপেক্ষিক আর্দ্রতার জেরে ‘রিয়েল ফিল’ পৌঁছে গিয়েছিল ৪৩ ডিগ্রিতে। অর্থাৎ, থার্মোমিটার অনুযায়ী সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও শহরবাসী এ দিন দুপুরে ৪৩ ডিগ্রির অস্বস্তি ভোগ করেছেন। তবে আজ, বৃহস্পতিবার বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা শুনিয়েছে হাওয়া অফিস। তাতে আর্দ্রতা ও গরমের অস্বস্তি থেকে সাময়িক মুক্তির সম্ভাবনা আছে।

    আবহবিদরা জানাচ্ছেন, দেশের উত্তর–পশ্চিম ও পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা গরম ও শুকনো বাতাসের প্রভাবে অতি দ্রুত পারদ চড়তে শুরু করেছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও রাজ্যের পশ্চিম দিকের পাথুরে মালভূমি অঞ্চলে। বুধবার আসানসোলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (৪০.২ ডিগ্রি) ৪০ ডিগ্রির কোঠা পেরিয়েছে। প্রায় ঘাড়ের কাছেই ছিল পানাগড় (৩৯.৯) এবং বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া (৩৯.৩)।

    তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই আবহেও কিছুটা স্বস্তির খবর শুনিয়েছেন আবহবিদরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, আজ বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বেশ কিছু জায়গায় বজ্রপাত–সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব বেশি। কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলোতেও বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রপাত–সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে আজ সন্ধেয় ঘণ্টায় ৫০–৬০ কিমি গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    হাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। একই সঙ্গে বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলের উপরে একটি অক্ষরেখাও বিস্তৃত হয়েছে। এই দুইয়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে। ওই বাষ্পই মঙ্গল ও বুধবার দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিকে চরম জায়গায় নিয়ে গিয়েছে। তবে একই সঙ্গে অনুকূল বায়ুপ্রবাহের জন্য ১৬–১৭ এপ্রিল দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা দিতে চলেছে। দক্ষিণের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ–সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।

  • Link to this news (এই সময়)