• সংসদে বৃহস্পতিবার পেশ হবে ৩ বিল, আসন পুনর্বিন্যাস বিরোধিতায় এককাট্টা বিরোধীরা
    এই সময় | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, নয়াদিল্লি: ২০২৯–এর লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই দেশের আইনসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ চালু করা হোক— কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রস্তাবে সম্মতি জানালেও সারা দেশে লোকসভার আসন পুুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করার সিদ্ধান্তেই অটল থাকছে বিরোধী শিবির৷ বুধবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে বৈঠকে বসেছিল বিরোধী শিবিরের সংসদীয় নেতৃত্ব৷

    সেখানেই সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভার বর্তমান আসন সংখ্যা ৫৪৩ অটুট রেখে যদি সরকার ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ লাগু করতে চায়, তাহলে বিরোধীরা সেই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাবে৷ কিন্তু সরকার যদি মহিলা সংরক্ষণ দেওয়ার নামে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস করে ৫৪৩-র বদলে ৮৫০ করতে উদ্যত হয়, তাহলে সংসদীয় কক্ষে দাঁড়িয়েই সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করা হবে।

    বৈঠক শেষে খাড়গে বলেন, ‘আমরা মহিলা সংরক্ষণের বিরোধী নই৷ সব বিরোধী দলই চায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হোক, কিন্তু এই পদক্ষেপ করতে হবে লোকসভার বর্তমান সদস্য সংখ্যার নিরিখে৷ আমরা আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিলের বিরোধিতা করব৷ লোকসভা এবং রাজ্যসভায় এই বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেবো৷’ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের ব্যাখ্যা, ‘প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী লোকসভায় আসন সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সরকার দাবি করছে, সব রাজ্যের আসন সংখ্যা সমানুপাতিক হারে বাড়বে এবং বর্তমান অনুপাত বজায় থাকবে। কিন্তু বিলের মধ্যে সেই অনুপাত রক্ষার কোনও সুস্পষ্ট বিধান নেই। সরকারের এই উদ্যোগে লোকসভায় বহু রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে।’

    লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এ দিন এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন, ‘২০২৩ সালে সংসদ সর্বসম্মতিক্রমে এই বিল পাশ করেছে এবং এটি ইতিমধ্যেই সংবিধানের অংশ। বর্তমানে সরকার যা প্রস্তাব করছে, তার সঙ্গে মহিলাদের সংরক্ষণের কোনও সম্পর্ক নেই। এই সংশোধন আসলে ডিলিমিটেশন এবং রাজনৈতিক স্বার্থে আসন বিন্যাসের কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা। ওবিসি, দলিত ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ন্যায্য অংশ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা আমরা মেনে নেব না, বিশেষ করে যখন জাতিগত জনগণনার তথ্য উপেক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ ভারত, উত্তর-পূর্ব, উত্তর-পশ্চিম এবং ছোট রাজ্যগুলির সঙ্গে কোনও রকম অবিচারও আমরা হতে দেব না।’

    সংসদ বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর অবশ্য পাল্টা দাবি, ‘বিরোধীরা বিভ্রান্তি তৈরি করছে৷ দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির আসন কমে যাওয়ার কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে৷ মহিলা সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনও রাজনীতি করা উচিত নয়৷ দেশের মহিলাদের সশক্তিকরণ ও ক্ষমতায়নের প্রশ্নে সব দলের একযোগে পথ চলা উচিত৷’

    এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডিএমকের টিআর বালু, আরজেডির তেজস্বী যাদব, তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষ, শিবসেনা (ইউবিটি)-র সঞ্জয় রাউত, অরবিন্দ সাওন্ত , এনসিপি (এসপি)-র সুপ্রিয়া সুলে , সিপিআই(এম)-এর নীলোৎপল বসু , আপ নেতা সঞ্জয় সিং, নির্দল সাংসদ কপিল সিবাল , আইইউএমএল-এর ইটি মহম্মদ বশির এবং আরএসপি-র এন কে প্রেমচন্দ্রন। ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব৷

    বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে চলা বিশেষ সংসদীয় অধিবেশনে সরকার তিনটি বিল পাশ করাতে চাইছে৷ এর মধ্যে মহিলা সংরক্ষণ (সংশোধনী) বিল ছাড়াও আছে আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) সংশোধনী বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আইন সংশোধন বিল৷ এই তিনটি সংশোধনী বিল পাশ করাতে লোকসভা ও রাজ্যসভা দু’টি কক্ষেই সরকারের দুই–তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন৷ এই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকারের হাতে নেই৷ সব সাংসদ যদি বিলের ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করেন তা হলে সরকারকে লোকসভায় ডিলিমিটেশন বিল পাশ করাতেঅন্তত ৩৬৪টি ভোট পেতেই হবে৷ বিরোধীদের সহযোগিতা ছাড়া এটা সম্ভব নয়৷ এই চ্যালেঞ্জ সরকার কী ভাবে সামলায়, সেটাই দেখার।

  • Link to this news (এই সময়)