এই সময়: ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সল্টলেকের প্রাক্তন কাউন্সিলার নির্মল দত্তকে গ্রেপ্তার করল বিধাননগর কমিশনারেটের দক্ষিণ থানার পুলিশ। সম্প্রতি নির্মলের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয় সমাজমাধ্যমে (সত্যতা যাচাই করেনি 'এই সময়')। যেখানে সল্টলেকের একটি সভায় নির্মলকে বলতে শোনা যায়, 'দত্তাবাদ এলাকার মানুষ কে, কোথায় ভোট দেয় আমরা জেনে যাব। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড লিঙ্ক করা আছে।' এই মন্তব্যের পরেই নির্বাচন কমিশনের কাছে বিধাননগরের এ বারের বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া, নির্বাচনে বেআইনি হস্তক্ষেপের মতো ধারায় মামলা রুজু করে।
নির্মল যে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ছিলেন, তাঁর স্ত্রী আলাে দত্ত বর্তমানে সেখানকার কাউন্সিলার। মূলত দত্তাবাদ ও সল্টলেকের পূর্বাচলের একটি অংশ জুড়ে এই ওয়ার্ড। ধৃত নির্মল, রাজ্যের মন্ত্রী, বিধাননগরের বিধায়ক ও এ বারের তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। এ দিন নির্মলের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে সুজিতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। মোবাইলে পাঠানো বার্তারও জবাব দেননি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, কলের মিস্ত্রি থেকে জীবন শুরু করা নির্মল মেট্রো রেলের কাজের জন্য উচ্ছেদের সময়ে 'নেতা' হয়ে ওঠেন। পরে মূলত দত্তাবাদের মানুষদের থেকে বেআইনি ভাবে টাকা নেওয়া, হুমকি দেওয়া, ভোট দিতে না দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠতে শুরু করে। স্ত্রী কাউন্সিলার হওয়ার পরেও মূলত তাঁরই 'রাজ' চলত বলে স্থানীয়দের দাবি।
নির্মলকে গ্রেপ্তারের পরে এ দিন আদালতে পেশ করে পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে চায়নি। বিচারক নির্মলকে ১০ দিন জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে আপাতত ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত নির্মলের ঠিকানা দমদম জেল। নির্মল আদালত চত্বরে দাবি করেন, 'পুরোটাই বিজেপির চক্রান্ত। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।' ২৯ এপ্রিল বিধাননগরে ভোট। প্রশ্ন উঠেছে, তার আগেই তাঁর জামিন পাওয়ার পথ প্রশস্ত করতে কি গ্রেপ্তার করেও তাঁকে হেফাজতে না চাওয়ার এই কৌশল? বিধাননগর কমিশনারেটের এক অফিসার বলেন, 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) অনুযায়ী কোনও ব্যক্তিকে প্রথমে হেফাজতে না নেওয়া হলেও পরে মাস দেড়েকের মধ্যে তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার সুযোগ থাকে।'
িবজেপির প্রার্থী শারদ্বতের অভিযোগ, 'আপনি কাকে ভোট দেবেন তা গোপন থাকার কথা। এ ভাবে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ায় গণতন্ত্রের সেই মূল ভিত্তিকেই চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। তাই আমি পুলিশের কাছে জামিন–অযোগ্য ধারায় মামলা করতে বলেছিলাম। তাতেই গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি।'
জোড়াফুলের পাল্টা দাবি, লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচন, সব ক্ষেত্রেই সল্টলেকের ১৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডেই তৃণমূলের লিড থাকে। শেষ লোকসভা ভোটেও শুধু এই ওয়ার্ডে সবথেকে বেশি ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। তাই নির্বাচনের প্রাক্কালে সেই ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলারের গ্রেপ্তারিতে ষড়যন্ত্রের গন্ধ দেখছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, 'কয়েকদিন আগে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের কর্মীকে যাঁরা রাস্তায় ফেলে মেরেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? শুভেন্দু অধিকারী বা দিলীপ ঘোষ রোজ যে সব হুমকি দেন, তার ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেয় কমিশন? আসলে কমিশন যে বিজেপির ক্রীতদাস, সেটা প্রমাণ করতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে।'