এই সময়: বয়স আশি পেরিয়েছে। তপ্ত দুপুরে রোদের তেজ কার্যত আগুন হয়ে ঝরছে সল্টলেকের পিচঢালা রাস্তায়। কিন্তু বৈশাখের এই দাবদাহেও ঘরে বসে থাকতে নারাজ তিনি। হাতে সেই পরিচিত লাল ব্যাগ, পরনে সাধারণ সুতির শাড়ি— কখনও সল্টলেকের ব্লকে ব্লকে ঘুরছেন, আবার কখনও দমদমের অলিগলিতে। শারীরিক সমস্যাকে পিছনে ফেলে এখনও সক্রিয় রমলা চক্রবর্তী। প্রয়াত সিপিএম নেতা সুভাষ চক্রবর্তীর স্ত্রীয়ের এই ‘সেকেন্ড ইনিংস’ দেখে রাজনৈতিক মহলের অনেকেরই মত— বয়স যে কেবল সংখ্যা মাত্র, তা আরও একবার প্রমাণ করছেন এই প্রবীণ নেত্রী।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে উত্তর ২৪ পরগনা ও সল্টলেকের বাম রাজনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক ছিলেন সুভাষ চক্রবর্তী। সেভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে না নামলেও রমলাদেবীর দলের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন ঘোরতর বিরোধীরাও। ছাব্বিশের লড়াইয়ে দলের প্রয়োজনে ফের কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন তিনি। নিয়ম করে প্রায় রোজই সল্টলেকের এফডি ব্লকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছেন বিভিন্ন ব্লকে। লক্ষ্য একটাই— দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে জনসংযোগ। বয়সের ভারে হাঁটাচলায় গতি কমলেও, ভোটারদের দরজায় পৌঁছে ভোট চাওয়ার জেদ কমেনি বিন্দুমাত্র।
সোমবার সকালে সল্টলেকের এফডি ব্লকে প্রচারে বেরিয়েছিলেন রমলাদেবী। তাঁকে দেখে এগিয়ে যান প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক রীতা চৌধুরী। তারপর বলেন, ‘সুভাষদা বেঁচে থাকলে সল্টলেকের রাস্তার অবস্থা দেখলে কষ্ট পেতেন।’ যা শুনে রমলার জবাব, ‘এই কারণেই তো বদল প্রয়োজন।’ কেবল জনসংযোগ নয়, দমদমে এক কর্মিসভাতেও দেখা গেল তাঁর সেই চেনা মেজাজ। বক্তৃতায় উঠে এল মূল্যবৃদ্ধি থেকে বেকারত্বের প্রসঙ্গ। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সরব রমলাদেবী স্পষ্ট বলছেন, ‘দলের দুঃসময়ে ঘরে বসে থাকার সময় এটা নয়। আমরা লড়তে জানি, আর সেই লড়াইটা বুথে বুথে পৌঁছে দিতে হবে।’
বাম শিবিরের নিচুতলার কর্মীদের একাংশের মতে, রমলাদির এই সক্রিয়তা ঝিমিয়ে পড়া কর্মীদের মধ্যে ‘অক্সিজেন’ জোগাচ্ছে। ২০১৬-র নির্বাচনেও নির্দল প্রার্থী অরুণাভ ঘোষের হয়ে ভোট ম্যানেজারের দক্ষ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি।
বিধাননগরের সিপিএম প্রার্থী সৌম্যজিৎ রাহা বলেন,‘রমলাদির মতো একজন ব্যক্তিত্ব যখন এই বয়সেও লাল ঝান্ডা হাতে রাস্তায় নামেন, তখন আমাদের মতো লড়াই করা কর্মীদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়। সল্টলেকের প্রতিটি গলি দিদির হাতের তালুতে।’ ওঁর মতো অভিজ্ঞ নেত্রীরা যখন মানুষের দরজায় পৌঁছে দেন, তখন ভোটারদের মধ্যেও অন্যরকম সাড়া পাওয়া যায়, দাবি বাম প্রার্থীর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রবীণ ভোটারদের মধ্যে রমলাদেবীর গ্রহণযোগ্যতা এখনও অটুট, যা সিপিএমের ভোটব্যাঙ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।