• ‘মহিলা বিলে ডিলিমিটেশন মানব না’, মোদি সরকারকে হারাতে একজোট বিরোধীরা
    বর্তমান | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আজ শুরু সংসদের বিশেষ অধিবেশন। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯ সাল থেকে ৩৩ শতাংশ মহিলা প্রতিনিধিত্ব আইন কার্যকর করতে সংবিধান সংশোধন বিল পাশ করানো। একইসঙ্গে পেশ ও পাশের চেষ্টা হবে আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধন বিলও। তবে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু ভোটের আগে মহিলা সংরক্ষণের নামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কোনোভাবেই কৃতিত্ব নিতে দেবে না বিরোধীরা। তারা মহিলা সংরক্ষণের পক্ষে হলেও সংবিধান সংশোধন বিলের প্রবল বিরোধিতা করবে।

    বুধবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাংলোয় বিজেপি বিরোধী ২১ দলের বৈঠকে এমনটাই ঠিক হয়েছে। ফলে আজ সংসদ উত্তাল হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, আসন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ২৪ আসনকেও ধরেছে সরকার। বিরোধী দলগুলির বৈঠক শেষে মল্লিকার্জুন খাড়্গে জানিয়েছেন, ২০২৩ সালেই মহিলা সংরক্ষণ আইন হয়ে গিয়েছে। নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম। মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিপক্ষে নই। কিন্তু যেভাবে মোদি সরকার চালাকি করে একই বিলের মধ্যে ডিলিমিটেশনকে যুক্ত করে আসন বাড়াতে চাইছে, তা মানব না। সব বিরোধী একজোট হয়ে ভোটাভুটিতে সরকারকে হারাব। কংগ্রেসের মুখ্য মুখপাত্র জয়রাম রমেশ জানান, আসন না বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে বাধা নেই। তাই বর্তমানে লোকসভায় যে ৫৪৩ আসন রয়েছে, তারই মধ্যে ৩৩ শতাংশ মহিলাদের জন্য‌ ঩নির্দিষ্ট হোক। এর জন্য লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ করার প্রয়োজনই নেই। প্রকৃত এলাকা পুনবিন্যাসকে এড়িয়ে ২০১১ সালের সেন্সাসকে ধরে সরকার যে আসন বাড়াতে চাইছে, তার প্রবল বিরোধিতা করা হবে। 

    উল্লেখিত ১৩১ তম সংবিধান সংশোধন বিলটি পাশ করাতে লোকসভায় ‘স্পেশাল মেজোরিটি’র প্রয়োজন। অর্থাৎ মোট আসন সংখ্যার অর্ধেকের একটি বেশি এবং সভায় উপস্থিত সাংসদের দুই-তৃতীয়াংশ। সংখ্যায় যা  ৩৬২। বিজেপি তথা এনডিএ’র কাছে রয়েছে ২৯৪। ফলে বিরোধীদের সমর্থন লাগবেই। আর এই মওকায় বিরোধীরাও মোদিকে বিপাকে ফেলার সুযোগ হাতছাড়া করবে না বলেই ঠিক করেছে। এদিনের বৈঠকে খাড়্গের পাশাপাশি কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, জয়রাম রমেশ, কে সি বেণুগোপাল হাজির ছিলেন। তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করেন দলের রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার সাগরিকা ঘোষ। 

    সুপ্রিয়া সুলে, তেজস্বী যাদব, টি আর বালু, এন কে প্রেমচন্দনের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার নির্দল সাংসদ কপিল সিবাল। ভার্চুয়ালি জোড়েন সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার হেমন্ত সোরেন এবং উদ্ধব থ্যাকারে। সকলে একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, সরকারের বিলের বিরোধিতা করা হবে। সেই মতো কংগ্রেস তাদের সব সাংসদকে সভায় উপস্থিত থাকতে হুইপ জারি করেছে। তবে রাজ্যে ভোট প্রচারে ব্যস্ত থাকায় তৃণমূলের অনেকেই আসবেন না। তৃণমূলের ২৮ জন হাজির না থাকলেও বিল আটকানোর সংখ্যা জোগাড়ে বিরোধীদের সমস্যা হবে না বলেই মনে করছে বিজেপি-বিরোধীরা।
  • Link to this news (বর্তমান)