• অশান্ত গুরুগ্রামও, শ্রমিক বিক্ষোভে বেসামাল মোদি, শ্রমকোড প্রত্যাহারের দাবি, মজুরি না বাড়লে লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
    বর্তমান | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নিজের রাজ্য, ঘর, পরিবার ছেড়ে পরিযায়ী শ্রমিকরা বছরের পর বছর ধরে ভিড় জমিয়েছে নয়ডা, গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ, গাজিয়াবাদে। শুধু একটু বেশি রোজগারের আশায়। সেই আয়ের স্বর্গোদ্যানে নামমাত্র মজুরি নিয়ে এবার দিকে দিকে বিদ্রোহ শুরু হয়ে গিয়েছে। নয়ডার বিক্ষোভ মিটছে না। যোগী সরকার যে মজুরি বৃদ্ধি করেছে তাতে শ্রমিকরা সন্তুষ্ট নয়। তার থেকেও বড় কথা, আন্দোলনের আঁচ আর নয়ডায় আটকে নেই। গুরুগ্রামেও ছড়িয়েছে। বিগত কিছুদিন ধরে  একাধিক ইস্যুতে সেখানে চলছে শ্রমিক বিক্ষোভ। মানেসরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিক্ষোভরত ৫০ শ্রমিককে। তাদের মুক্তির দাবিতে শ্রমিক সংগঠনগুলি ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। পাশাপাশি আজ তিন ঘণ্টার প্রতীকী কর্মবিরতিতে নামছে খোদ পুরসভা ও সরকারি দপ্তরের কর্মীরা। ২৯ নম্বর সেক্টরে সাতদিন ধরে চলছে গুরুগ্রাম দমকল বিভাগের কর্মীদের ধরনা। অর্থাৎ সরকারি এবং বেসরকারি উভয় সেক্টরের শ্রমিকরা বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, যে ড্রাইভারদের দমকল বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে তাদের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা-প্রশিক্ষণ কিছুই নেই। কম বেতনে, চুক্তির ভিত্তিতে এভাবে অনভিজ্ঞদের নিয়ে আসা হচ্ছে। এতে চরম দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকছে।

    গুরুগ্রামের সিটু নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় শ্রম কোড বাতিল করতে হবে। অন্য শ্রমিক সংগঠনগুলি জানিয়েছে, হরিয়ানার বিজেপি সরকার ‘স্টেট মিনিমাম ওয়েজ কমিটি’ গঠন করেছিল গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। সেই কমিটির সুপারিশ ছিল ন্যূনতম মজুরি করা হোক ২৩ হাজার ১৯৬ টাকা। কিন্তু তা মানা হয়নি। ৯ এপ্রিল হরিয়ানা সরকার অদক্ষ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে করেছে ১৫,২২০ টাকা। আর দক্ষ শ্রমিকের ১৮,৫০০ টাকা। গুরুগ্রাম, মানেসরে অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি দেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ। কোটি টাকার গাড়ির যন্ত্রাংশ যারা তৈরি করছে, তাদের মজুরি ১৮ হাজার ৫০০ হতে পারে? আর সেটাও এতদিন ধরে ছিল ১৩,৭০৪ টাকা! প্রশ্ন তুলেছে শ্রমিক সংগঠনগুলি। তাদের আরও দাবি, গুরুগ্রামে থাকা-খাওয়ার খরচ প্রচণ্ড বেশি। যাতায়াতের খরচও প্রচুর। তার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম কোড আইনের জালে ১২ ঘণ্টা করে ডিউটি হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে হরিয়ানার পানিপথে ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডরে ইন্ডিয়ান অয়েলের তেল শোধনাগারে ৩০ হাজার ঠিকাশ্রমিক বিক্ষোভ আন্দোলন করেছে। সেটাও মজুরি বৃদ্ধি আর কাজের পরিবেশের উন্নতির দাবিতে।

    বিজেপিশাসিত রাজ্য সরকারগুলি অবশ্য বঞ্চনার কথা মানতে রাজি নয়। বিশেষ সিন্ডিকেট এবং ‘দেশবিরোধী’ শক্তিই শ্রমিকদের প্ররোচনা দেওয়ার নেপথ্যে বলে নয়ডায় একাধিক এফআইআর হয়েছে। হরিয়ানায় মানেসরেও একই অভিযোগে শুরু হয়েছে তদন্ত। কিন্তু এভাবে একের পর এক শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, বিদ্রোহের আগুন কেন ছড়াচ্ছে? এ নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন মোদি সরকার। কোনো বহিরাগত শক্তি শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছে কি না, জানতে কেন্দ্রীয় সরকারও পৃথক তদন্ত করবে। শ্রমিকদের ক্ষোভকে কী চোখে দেখছে নয়ডা পুলিশ? এদিন বিক্ষোভরত জনতাকে তাদের পক্ষ থেকে সাফ বলা হয়, কাজ করতে হলে কারখানায় যান। কাজ না করলে ঘরে যান। বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ চলবে না। যতটা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার, ততটাই নেওয়া হবে!
  • Link to this news (বর্তমান)