• গাড়ি তল্লাশি ইস্যুতে কমিশন-বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ মমতার– প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িতে তল্লাশির দাবি
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • বিধানসভা ভোটের আগে গাড়ি তল্লাশি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে নির্বাচনী সভা থেকে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুললেন, যদি তৃণমূল নেতাদের গাড়িতে তল্লাশি হয়, তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের গাড়ি কেন বাদ যাবে?

    বুধবার জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা জানান, দমদম বিমানবন্দরে তাঁর গাড়ির কাছেও কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে গিয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘আমি নিজেই বলেছি, চেক করো। আমার গাড়িতেও তল্লাশি হোক।’ তবে এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। বরং সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তৃণমূলের সব নেতার গাড়িতে তল্লাশি হলে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িতে কেন হবে না? বিজেপির গাড়ি কেন তল্লাশি হবে না? শুধু তৃণমূলের ক্ষেত্রেই কেন?’

    মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনকেও একপ্রকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তাঁর বক্তব্য, ‘সাহস থাকলে সবাইকে বাদ দিয়ে প্রতিদিন আমার গাড়ি তল্লাশি করুন।’ তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর গাড়ি তল্লাশি করতে এসে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যায়।

    নিজের সততা নিয়ে জোর গলায় মমতা বলেন, ‘আমি চোর বা ডাকাত নই। আমি রাজনীতি করি। সরকারের থেকে এক পয়সা বেতনও নিই না।’ সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা টাকা নিয়ে আসছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িতে কী আসে, তা আমি জানি।’ যদিও এই অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি জনসমক্ষে তুলে ধরেননি।

    রাজনৈতিক বক্তব্যে জাতীয় স্তরের ইস্যুও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকার ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে ‘দেশ ভাগের চেষ্টা’ করছে। মমতার বক্তব্য, ‘ডিলিমিটেশন আর মহিলা বিল এক জিনিস নয়। মহিলা বিলের আড়ালে দেশের গঠন বদলানোর চেষ্টা চলছে।’ তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকেই ইতিমধ্যে বহু মহিলা সাংসদ নির্বাচিত হয়ে সংসদে গিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হচ্ছে। একদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের আক্রমণ, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা অভিযোগ— সব মিলিয়ে নির্বাচনী আবহ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)