কাজল মণ্ডল, ইসলামপুর: চা শ্রমিক ও উদ্বাস্তুদের বাসস্থানের গ্যারান্টি দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। জমির অধিকারের গ্যারান্টি দিচ্ছে। চা সুন্দরী প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গের চা বাগানের ভূমিহীন ও গরিব শ্রমিকদের পাকা ঘর তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এবার উদ্বাস্তুদের মধ্যে যাঁরা এখনও জমির পাট্টা পাননি, তাঁদেরও দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে বুধবার ইসলামপুরে নির্বাচনি সভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
একইসঙ্গে পিএফ সহ অন্য বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ করতে চলেছে বলে উল্লেখ করেন মমতা। উত্তর দিনাজপুর জেলার চা বলয় হিসেবে পরিচিত চোপড়া ও ইসলামপুর বিধানসভা এলাকার মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে তাঁর এই ঘোষণায়।
বুধবার ইসলামপুর কোর্ট ময়দানে নির্বাচনি জনসভা করেন মমতা। বলেন, চা শ্রমিকদের জন্য যতটা পারছি করছি। চা সুন্দরী প্রকল্প করেছি। শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যাঁদের এখনও পাট্টা পাওয়া বাকি আছে, তাঁরা পেয়ে যাবেন। আপনাদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। আরও যা যা বাকি আছে, সব পাবেন।
চা বাগানে প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) নিয়ে বেশকিছু বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এর আগে শ্রমিকদের সরব হতে দেখা গিয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চ থেকে বলেন, কিছু কিছু মালিকপক্ষ আছে, যারা শ্রমিকদের পিএফ দেয় না। এজন্য আমরা আইন তৈরি করব। উদ্বাস্তুদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যাঁরা এখনও পাট্টা পাননি, পেয়ে যাবেন। নির্দেশ দেওয়া আছে। প্রক্রিয়া চলছে।
এদিন চোপড়া ও ইসলামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হামিদুল রহমান ও কানাইয়ালাল আগরওয়ালের সমর্থনে ইসলামপুরে মুখ্যমন্ত্রী জনসভা করেন। তবে, উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ও করণদিঘি কেন্দ্র ছাড়া সবক’টি কেন্দ্রের প্রার্থীরা এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন।
চোপড়া ও ইসলামপুরে ছোট বড় মিলিয়ে ৩০০ চা বাগান আছে। সেই বাগানগুলিতে হাজার হাজার মানুষ শ্রমিকের কাজ করেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর কথায় তাঁদের মুখে হাসি ফুটেছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন সময় উদ্বাস্তুদের পাট্টা বিলি করেছে সরকার। কিন্তু ইসলামপুর শহরে এখনও বহু উদ্বাস্তু পরিবার পাট্টা পায়নি। তাঁরাও এদিনের ঘোষণার খুশি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মানবিক, তা আরও একবার প্রমাণ হয়েছে।
চোপড়ার বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রার্থী হামিদুল রহমান বলেন, গতবারের চেয়েও বেশি ভোটে লিড নিয়ে জয়ী হব। ইসলামপুর কেন্দ্রের প্রার্থী কানাইয়ালাল বলেন, ন্যূনতম ৫০ হাজার ভোটে জয়ী হব।
২৫ বছর ধরে পুরসভার চেয়ারম্যান পদে আছেন কানাইয়া। ২০১৬ সালে কংগ্রেসের প্রতীকে বিধায়ক হয়েছিলেন। তাঁর অনুগামীরা বলছেন, ২৫ বছরের পুর পরিষেবা দেওয়ার ফসল তোলার পালা এসেছে এবার। গ্রামাঞ্চলেও সুপরিচিত কানাইয়া। ১১ বারের বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা আব্দুল করিম চৌধুরীর গড় ইসলামপুরে এবার দল তাঁকে প্রার্থী করেনি। কিন্তু করিম নীরবে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর অনুগামীরাও কানাইয়াকে জেতাতে নেমে পড়েছেন মাঠে। যা তৃণমূলের কাছে বাড়তি অক্সিজেন। • ইসলামপুরের জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। - নিজস্ব চিত্র।